সৌদি আরবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও আঞ্চলিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নৌ কর্মকর্তারা।
সৌদি রয়্যাল নেভাল স্টাফের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ আল-ঘুরাইরি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল কার্ট রেনশ ও তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
বৈঠকে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় ও আশপাশের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তায় জোর
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের বড় একটি অংশ হয়ে থাকে।
এসব নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। এ কারণে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র- উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বৈঠকের সময় বা আলোচনার অন্য কোনও বিস্তারিত বিষয় জানানো হয়নি। তবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতার বিষয়টিকে সামনে রেখে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সামরিক সহযোগিতার আরেক দিক
সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই কমান্ডের দায়িত্বের আওতায় রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল, আরব সাগর ও লোহিত সাগরসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকা।
ফলে সৌদি নৌবাহিনী প্রধান ও মার্কিন নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডারের বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বৈঠকে কোনও নতুন সামরিক চুক্তি, যৌথ অভিযান বা নির্দিষ্ট নৌ মহড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, রিপোর্ট লেখ পর্যন্ত তা সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা