ফিফা ও উয়েফার মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব এবার গড়িয়েছে আইনি লড়াইয়ে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা অভিযোগ করেছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক উয়েফা তাদের বিরুদ্ধে ‘অপতথ্যের প্রচারণা’ চালাচ্ছে এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দেওয়া জবাবে এই অভিযোগ তুলেছে ফিফা।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই। বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
গত মাসে উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের অনুমতি চায়। এসব তথ্য সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনো ও ফিফার অন্য কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছিল উয়েফা।
ফিফা অবশ্য উয়েফার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালতে দেওয়া নথিতে তারা বলেছে, উয়েফার আবেদনে ফিফা ও ইনফান্তিনোকে নিয়ে ‘অনেক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ রয়েছে।
ফিফার দাবি, এফএফই পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য ফিফার সদস্য দেশগুলোর সংগঠন ও ফিফা কাউন্সিল—দুই পক্ষেরই অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তাই ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগ থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন—উয়েফার এমন ইঙ্গিতের কোনো ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেছে ফিফা।
অন্যদিকে উয়েফা অভিযোগ করেছে, এফএফই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের মূল্যায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। উয়েফা বিষয়টি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।
দুই সংস্থার এই বিরোধের পেছনে ফিফা সভাপতির আসন্ন নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইনফান্তিনো। ফিফার অভিযোগ, উয়েফার আইনি উদ্যোগের একটি উদ্দেশ্য হলো সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব তৈরি করা।
উয়েফা অবশ্য ফিফার সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার চেফেরিন একই সময়ে ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবগুলোর এক সভায় ফিফার নেতৃত্ব ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইনফান্তিনোর নাম সরাসরি না নিলেও তার বক্তব্যে ফিফা নেতৃত্বের পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান ফুটে উঠেছে।