বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাত মাস পর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিশ্ববাজারে বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। ইরান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদক দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবারও যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
জ্বালানি বাজার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ এর মতে, সেপ্টেম্বর মাসে এই অঞ্চলের তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক অন্তত ১ কোটি ৬৫ লাখ (১৬.৫ মিলিয়ন) ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে তেলের সরবরাহ আগের জায়গায় ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী তেল পরিবহন ব্যবস্থায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কেপলার জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আঞ্চলিক তেল পরিবহন ও রুট পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন বিকল্প পাইপলাইন রুটের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেপলারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের মাত্র ১৭ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি পার না করে সরাসরি বিকল্প বন্দরে পৌঁছে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিকল্প রুট ছাড়া যেসব তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও অবলম্বন করা হচ্ছে ভিন্ন কৌশল। কেপলার জানায়, আগস্ট মাসে এই প্রণালি অতিক্রম করা মোট অপরিশোধিত তেলের ৭০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রের মাঝপথে এক ট্যাংকার থেকে অন্য ট্যাংকারে (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ডাটা ফার্ম কেপলার মন্তব্য করেছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহের পরিমাণ আগের জায়গায় ফিরে এসেছে ঠিকই, তবে এটি সম্ভব হয়েছে একদম ভিন্ন এবং নতুন একটি রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর ভর করে।’
সূত্র: আল-জাজিরা।