রাজনীতি

‘বিএনপির হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিতে হবে’

  জাগোকন্ঠ ১ আগস্ট ২০২২ , ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দেখেছি বিএনপি নেতারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে। তাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে। তাদের সবার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেন। আর দেশের মানুষকে আমরা নিরাপত্তা দেব। মানুষ যেন ভালো থাকে সেই কাজটাই আমরা করব।

আসন্ন জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ (সোমবার) কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকা, ইউরোপের প্রতিটি দেশ, প্রতিবেশি ভারতসহ সব দেশই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নজর দিয়েছে। যখন উন্নত দেশগুলো হিমশিম খায়, আমরা আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছি এই কারণে, ভবিষ্যতে আমরা যেন কোনো রকম বিপদে না পড়ি। সেটা মাথায় রেখে সাশ্রয়ী হচ্ছি। সেটা হওয়ার মানে এই না যে এখান থেকে লুটপাট করে খেয়েছি।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে লুটপাট হয়েছিল। আমরা সেই লুটপাট বন্ধ করে উন্নতি করেছি। মাত্র তিন হাজার, সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। লুটপাট করলে সেটা করা সম্ভব হতো না। লুটপাট করলে কমে যায়। চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট থেকে যারা ৩০০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনে, তারাই লুটপাট করে। আর যারা বাড়াতে পারে, তারা লুটপাট করে না।

সরকারপ্রধান বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র থাকলে কোনো দেশের যে উন্নতি হয় বাংলাদেশ তার দৃষ্টান্ত। যে দল জনগণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে, যে দলের নেতাকর্মীরা একটা জাতির জন্য আত্মত্যাগ করতে পারে, জেল-জুলুম সহ্য করতে পারে, সেই দল ক্ষমতায় আসলে যে নীতি, আদর্শ থাকে, সেটা নিয়ে চললে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে। আওয়ামী লীগ সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করেছে ও প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল দেশের ইতিহাসে স্বর্ণ যুগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছিল। গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি, তাই ক্ষমতায় আসতে পারিনি। এটা হলো বাস্তবতা। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে খাদ্য কিনে কমিশন খেয়েছে এবং অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। এটাতো বিএনপির এক নেতার বক্তব্যেই আছে। আর গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে এসব কাজ করানো হতো। দশ ট্রাক অস্ত্রের একটা চালান ধরা পড়েছে। এরকম কত চালান এই দেশে এসেছে আর গেছে। সেই সময় দলটি দেশকে পরনির্ভরশীল করে ফেলেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্য হলো, সামরিক শাসকের হাত ধরে ক্ষমতায় থেকে সংবিধান লঙ্ঘন করে যে দল গঠন করা হয়েছিল ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে, তাদের কাছ থেকে এখন নানা রকম নীতির কথা শুনতে হয়।

পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের পূর্বাপর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যাদের একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করলেন সেই বাঙালিদের হাতেই আমার বাবাকে জীবন দিতে হলো। এই প্রশ্নের উত্তর কখনও খুঁজে পাই না যে এত বড় বেইমানি, এত বড় মোনাফেকি কীভাবে করে। ঠিক পঁচাত্তরের আগে ব্যাপকভাবে মিথ্যা প্রচার করে কামালকে তো ব্যাংক ডাকাত বানালো, মাকে চোর বানালো। আমার বাবার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার… আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার। এমনভাবে প্রচার, এ প্রচার শুধু বাংলাদেশে না আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সে প্রচারটা আপনারা দেখেছেন যে, মিথ্যা প্রচারটা তারা কীভাবে করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে একটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মানুষের ধারণা ছিল এ দেশের কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। যুদ্ধাকালীন সময়ে কোনো খাদ্য উৎপাদন হয়নি, রিজার্ভ মানি বলে কিচ্ছু ছিল না। একটি টাকাও রিজার্ভ ছিল না। কারেন্সি নোট ছিল না। সেই ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে সেই অবস্থায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ এগিয়ে নিয়ে যান। বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত দেশের মর্যাদা পায়। এই অসাধ্য সাধন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই করেছিলেন।

তিনি বলেন, সেই সময়ে আমাদের দেশেরই, এই পূর্ববাংলারই কিছু মানুষ, এই বাংলাদেশ, এই রাষ্ট্রের জাতির পিতার বিরুদ্ধে শুধু অপপ্রচার চালানো না… একটা যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ পুনর্গঠনের যখন কাজ চলছে তখন সেখানে দোষ ধরার, খুঁত ধরার কী আছে? তখন সবাই মিলে কাজ করবে দেশটাকে গড়ে তোলার। সেটা না করে তখন থেকে শুরু হয়ে গেল সমালোচনা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, মিথ্যা অপপ্রচার করা। নগদ টাকা দিয়ে কেনা খাদ্যের জাহাজ আমেরিকা বাংলাদেশে পৌঁছাতে দিলো না, যেখানে সম্পূর্ণভাবে হিসেব করা ছিল এই খাদ্যের জাহাজ আসবে। কারণ তখনও তো আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল। কারণ তখন তো নিজেদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারিনি। সেই খাদ্য জাহাজ ফিরিয়ে দিল, সেই খাদ্য জাহাজ আসতে দিল না।

আরও খবর: