ধর্ম

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির বিধান

  জাগোকন্ঠ ১৪ জুন ২০২২ , ১:৪৪ অপরাহ্ণ

পশু কোরবানি করবেন কিন্তু চামড়া কী করবেন? কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবহার কিংবা বিক্রি করে অর্থ খরচ করা সম্পর্কে ইসলামের বিধানই বা কী? কোরবানির পশুর চামড়া কি কোরবানি দাতা ব্যবহার করতে পারবেন? এটির বিক্রি করা অর্থ কোরবানি দাতা খেতে পারবে কি?

কোরবানিদাতা কোরবানির পশুর চামড়া চাইলে ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু এটি বিক্রি করে এ অর্থ নিজেরে কোনো কাজে লাগাতে পারবেন না। এ অর্থ নিজে খেতেও পারবেন না। এ সম্পর্কে সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। ইসলামে রয়েছে এর সুন্দর সমাধান।

কোরবানির পশুর চামড়ার ব্যবহার
কোনো ব্যক্তি যদি কোরবানি দেয় তবে সে তার কোরবানি করা পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারবেন। কোরবানিকারী ব্যক্তি ইচ্ছা করলে নিজের কোরবানির চামড়া দাবাগাত করে তা ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কোরবানির পশুর চামড়ার ব্যবহার সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ তোমরা কোরবানির পশুর চামড়া দ্বারা উপকৃত হও; তবে তা বিক্রি করে দিও না।’

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি
কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করা যাবে। তবে বিক্রিত অর্থ কোরবানিদাতা নিজ কাজে খরচ করতে পারবেন না। আর তা নিজের কাজে খরচ করা বৈধও নয়। এ অর্থ গরিব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আমি যেন কোরবানির (পশু সংরক্ষণে কাজ করা ব্যক্তির) মজুরি বাবদ গোশত বা চামড়া থেকে কসাইকে কোনো কিছু প্রদান না করি।’

কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রিত অর্থ খরচের খাত
যারা জাকাত, ফিতরা পাওয়ার উপযুক্ত তারাই কোরবানির পশুর চামড়ার বিক্রিত অর্থ পাওয়ার হকদার। তবে এক্ষেত্রে এতিম, গরিব তালিবুল ইলম তথা ইলমে দ্বীনের গরিব শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দেওয়া যাবে। তালিবুল ইলম তথা ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী যদি এতিম বা গরিব হয় তবে তাকে জাকাত, ফিতরা ও কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য দানেও রয়েছে বেশি সওয়াব।

হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, কোরবানির পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করা উত্তম। তবে তা বিক্রি করলে তার মূল্য নিজের কাজে লাগানো যাবে না। এমনকি চামড়া বা গোশত দ্বারা কসাইয়ের মজুরির অর্থও দেওয়া যাবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব কোরবানিদাতাকে পশুর চামড়ার ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ পন্থা অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। আর তা বিক্রি করলে তার মূল্য বা অর্থ এতিম, গরিব, মিসকিন ও ইলমে দ্বীনের গরিব শিক্ষার্থীকে দান করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।