ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা না করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে চীন ইরানকে সহায়তা করছে না বলে ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে বলে দাবি করেছেন চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পারডিউ শুক্রবার সিএনবিসি ও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প শিকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চীন ইরানকে সহায়তা বন্ধ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পারডিউ বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অগ্রগতি দেখা গেছে। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ইরানকে এমন সহায়তা দিচ্ছে না।
তবে একই দিনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পরও চীনা কর্মকর্তারা ইরানকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেহরানের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সামরিক সম্পর্ক সীমিত করা হবে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। জুলাইয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরান চীনে তৈরি কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ৪০০টি উৎক্ষেপণযন্ত্র পাওয়ার প্রত্যাশা করছিল।
এ ছাড়া চীনের সহায়তায় তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য, এমনকি সামরিক সরঞ্জামও কিনছে বলে চলতি মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধের অবসানে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানকে চীনের সহায়তার অভিযোগ নিয়ে শি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
সূত্র: রয়টার্স