Jahirul Hasan
প্রকাশ : Aug 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

একাদশে ভর্তিতে আসন সংকট হবে না, ফাঁকা থাকবে কয়েক লাখ


এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পালা। তবে এবার একাদশে ভর্তিতে আসন নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ, একাদশে ভর্তিতে মোট আসনের তুলনায় এসএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। ফলে সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও সারা দেশে কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকবে।

একইসঙ্গে বরাবরের মতো এবারও লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর স্কোর বা জিপিএ এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে পুরো ভর্তি কার্যক্রম।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে একাদশে ভর্তি নিয়ে এসব তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সময়সূচি অনুযায়ীই ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ভর্তিতে লটারি বা পরীক্ষা হবে না। প্রচলিত নিয়মে শিক্ষার্থীর স্কোর এবং তার চাহিদার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও একই তথ্য জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মার্ক বা জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে।

শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। বিপরীতে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ একাদশে ভর্তির জন্য বিদ্যমান মোট আসনের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম।

সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও বিপুলসংখ্যক আসন পূরণ হবে না। ফলে সার্বিকভাবে এবারও একাদশ শ্রেণিতে আসন সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং অনেক আসন খালি পড়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। 

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, গত বছর একাদশ শ্রেণিতে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, এবার তার তুলনায় আরও বেশি আসন শূন্য থাকবে। দেশে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন প্রায় ২৫ লাখ। গত বছরও মোট আসনের উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হয়নি। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার আরও কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এদিকে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র এবং ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী। অর্থাৎ পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।

একাদশে ভর্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে ‘জিপিএ’, লড়াই হবে ভালোমানের কলেজ ঘিরে 

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীদের কলেজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীর ফল, সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা, আসনসংখ্যা এবং শিক্ষার্থীর দেওয়া পছন্দক্রমের ভিত্তিতেই ভর্তির জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়। আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দ অনুযায়ী একাধিক কলেজ নির্বাচন করতে পারেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কলেজের আসনসংখ্যা, বিভাগ, শিফট ও নির্ধারিত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীর ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়।

ফলে কোনো কলেজে আবেদন করলেই সেখানে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। কোনো একটি কলেজে নির্ধারিত আসনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হলে ওই কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পায়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীর পছন্দক্রমও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী প্রথম পছন্দের কলেজে সুযোগ না পেলে তার পরবর্তী পছন্দের কলেজে আসন পাওয়ার সুযোগ থাকে।

কলেজভেদে শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্যতা ও আসনসংখ্যায়ও পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ও দেশের বড় শহরের নামি কলেজগুলোতে নির্ধারিত আসনের তুলনায় আবেদনকারী বেশি হওয়ায় সেখানে প্রতিযোগিতা বেশি হয়। এসব কলেজে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য আলাদা আসন থাকে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিফট, ভার্সন বা অন্যান্য কাঠামোর কারণেও আসন আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়। ফলে দেশে সামগ্রিকভাবে আসন বেশি থাকলেও পছন্দের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থেকেই যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর প্রথম সারির একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমাদের কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আসনসংখ্যা এবং বিভাগভিত্তিক যোগ্যতা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। ফলে ইচ্ছা করলেই সব শিক্ষার্থী এখানে আবেদন করতে পারেন না। একজন শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদনের জন্য যে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পূরণ করতে হয়। এরপর নির্ধারিত আসনের বিপরীতে যারা আবেদন করেন, তাদের ফল ও অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত বিবেচনা করে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘একটি কলেজে আসন সীমিত। কিন্তু একই কলেজে আবেদন করতে চায় এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকে। এ কারণে সব শিক্ষার্থীকে আসন দেওয়া সম্ভব হয় না। যাদের ফল ও পছন্দক্রম সংশ্লিষ্ট কলেজের আসনের সঙ্গে মিলে যায়, তারাই ভর্তির সুযোগ পায়। তাই দেশে মোট আসন বেশি থাকলেও প্রথম সারির কলেজগুলোতে প্রতিযোগিতা থেকেই যায়।’

ওই অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কলেজ নির্বাচনের সময় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে ফল ও যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পছন্দক্রম দেওয়া উচিত। কারণ পছন্দক্রমের ওপরও পরবর্তী সময়ে আসন পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। কোনো শিক্ষার্থী প্রথম পছন্দে সুযোগ না পেলে তার পরের পছন্দের কলেজে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

অন্যদিকে বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, একাদশে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীর ফল, সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা, আসনসংখ্যা এবং পছন্দক্রমের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। তাই সার্বিকভাবে দেশে আসনসংখ্যা বেশি থাকলেও সব কলেজে ভর্তির সুযোগ এক নয়। বিশেষ করে যেসব কলেজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি, সেখানে তুলনামূলক ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। বিপরীতে আবেদনকারী কম এমন অনেক কলেজে নির্ধারিত আসন খালি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া শিগগিরই একাদশ ভর্তি নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা এবং নির্দেশনা জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনী তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়া

1

বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সঙ্গে মাদককাণ্ড, বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার

2

কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন না মোজতবা খামেনি!

3

আদালত চত্বরে এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা গাজী তানভীরের ওপর ডিম নিক

4

আম্পায়ার সৈকতের পদত্যাগের কারণ জানাল বিসিবি

5

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি ছাড়া পারমাণবিক চুক্তি নয়, সৌদিকে ট্রাম্প

6

ইনফান্তিনোর সমালোচনায় খোদ ফিফা সেক্রেটারি ও আর্সেন ওয়েঙ্গার

7

কেন হঠাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ছেন লাখ লাখ প্রবাসী

8

আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ

9

বরগুনায় লাগাতার লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

10

ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে রাতভর ইসরায়েলি সেনাদের তাণ্ডব

11

সৌদির পণ্য রপ্তানিতে ইয়েমেনি গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা, বাড়ছে তেলের

12

বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, শিগগিরই ঢাকা সফরে

13

নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

14

মাদ্রিদ ক্লাবে প্রথম কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান

15

গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হব

16

অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্প

17

মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণের নির

18

কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে SAF-এর সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সুশি প

19

জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান

20