দেশজুড়ে

শান্তিনগরে বিল্ডিং কোড অমান্য করে ভবন নির্মাণ আতঙ্কে এলাকাবাসী

  জাগো কন্ঠ ২৯ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:

শান্তিনগরে বিল্ডিং কোড অমান্য করে ভবন নির্মাণে
আতঙ্কে আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। ১০ তলা এ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করেন অনেকে।

রাজধানীর শান্তিনগরে ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে অমান্য করে নিজের মতো করে নির্মাণ করছেন ১০ তলাবিশিষ্ট বহুতল ভবন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় আমজাদ হিরণ ও তার সহযোগীরা এ ভবনটি নির্মাণ করছেন। ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্পে ধসে পড়ার (নিঃসরণ) শঙ্কায় রয়েছে বলেনজানা এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনটিতে মানা হচ্ছে না ন্যূনতম ‘বিল্ডিং সেফটি’ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে চারপাশে যে পরিমাণ জায়গা (সেটব্যাক) ছাড়ার কথা, তা ছাড়া হয়নি। এমনকি রাজউকের অনুমোদিত নকশার সাথে বর্তমান কাঠামোর কোনো মিল নেই।
শত ফুট ওপরে কাজ করা শ্রমিকদের পরনে নেই কোনো হেলমেট, শরীরে নেই সেফটি বেল্ট, নেই কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী। ফলে পথচারী ও শ্রমিকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমজাদ হিরণ গংরা রাজউকের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে ভবন তুলছেন। যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে এটি তোলা হচ্ছে, তাতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেই এটি পাশের ভবনের ওপর আছড়ে পড়তে পারে। আমরা আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং রাজউকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভবন মালিক আমজাদ হোসেন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ব্যাপারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জানান, অবৈধ স্থাপনা ও নকশা বহির্ভূত কাজের বিরুদ্ধে রাজউক বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, “কেউ চাইলেই নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করতে পারে না। আমাদের নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি বর্তমানে রাজউকের বিশেষ মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমজাদ হিরণ বা যেই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। খুব শীঘ্রই আমাদের মোবাইল কোর্ট সেখানে অভিযান পরিচালনা করবে। যদি লেবার সেফটি না থাকে এবং নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হবে এবং অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হবে। রাজউক কোনো অনিয়মকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না।”

রাজউকের চলমান মোবাইল কোর্ট অভিযানের মাধ্যমে শান্তিনগরের এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর