Jahirul Hasan
প্রকাশ : Nov 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রোনালদোর যেসব রেকর্ড শিগগিরই ভাঙছে না

গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর কোনোদিন জাতীয় দলের জার্সিতে তার পা পড়বে না মাঠে। পর্তুগালের হয়ে অসংখ্য রেকর্ডই তিনি গড়েছেন। কিন্তু এমন ৯টি রেকর্ড আছে, যা হয়তো ফুটবল ইতিহাসে অক্ষত হয়ে থাকবে।

আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল
সর্বকালের শীর্ষ আন্তর্জাতিক গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৪৬ গোল করেছেন। ২০ গোল পেছনে থেকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন। রোনালদোর কাছে রেকর্ডটি হারানো আলী দাইয়ি ৩৮ গোল পেছনে।

বর্তমানে খেলার মাঠে সক্রিয় থাকা ফুটবলারদের মধ্যে রোনালদোর সবচেয়ে নিকটবর্তী রোমেলু লুকাকু। ৯৪ গোল করেছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সে এসে পর্তুগিজ তারকার রেকর্ডের পেছনে ছোটা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। এরপর ৯২ গোল করা পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কির নাম আসছে, কিন্তু তিনি আর কতই বা গোল যোগ করতে পারবেন।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের জার্সিতে দুরন্ত ফর্মে থাকা হ্যারি কেইনকে রোনালদোকে টপকানোর জন্য ৫০টিরও বেশি গোল করতে হবে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ 
রোনালদোর আন্তর্জাতিক গোল করার রেকর্ড গড়তে লম্বা সময় পার করতে হয়েছে। ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি পর্তুগালের জার্সিতে খেলেছেন ২৩৪ ম্যাচ। সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার তালিকায় শীর্ষে তিনি। 

মেসির (২০৮) চেয়ে ২৬টি ম্যাচ বেশি খেলেছেন পর্তুগিজ তারকা। ৪১ বছর বয়সী লুকা মদরিচ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে, সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থের চেয়ে ২৮ ম্যাচ পেছনে তিনি। 

সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে রোনালদোর ম্যাচসংখ্যার নিকটে আছেন কাতারের হাসান আল হায়দোস। আল সাদ অধিনায়ক ১৯৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু শীর্ষে যেতে এখনও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে।

৩০ এর পরে গোলমেশিন
বয়সের ভারে কুঁজো হননি রোনালদো। বরঞ্চ তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধে আরও বেশি ধারালো হয়ে উঠেছেন। ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর দেশের হয়ে ৯৪ গোল করেছেন রোনালদো, যেখানে তার আগে করেছেন মাত্র ৫২ গোল। 

এই তালিকায় ত্রিশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ গোল করেছেন মেসি। রোনালদোর এই রেকর্ড ভাঙা সত্যিই অনেক কঠিন। কারণ বয়স দূরের কথা, পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র চার ফুটবলার ৯৪টি বা তার বেশি গোল করেছেন।

ভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল
পর্তুগালের হয়ে ৯৬টি ভিন্ন ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন রোনালদো, এই সংখ্যা তার বছরের পর বছর গোলের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন।

শুধু গোলসংখ্যাই নয়, যেসব ম্যাচে গোল করেছেন তার সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। কেবল রোনালদো, মেসি ও আলী দাইয়ি আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে এই কীর্তি গড়েছেন।

ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা
পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদো ৪৯টি ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন। এই তালিকাতে তিনি মেসির চেয়ে তিনটি বেশি দলের বিপক্ষে গোলের দেখা পেয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন প্রতিপক্ষ উঠে আসছে, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্ভবত আরও বেশি জাতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। কিন্তু রোনালদোর এই কীর্তিতে ভাগ বসানো বিশাল চ্যালেঞ্জিং। 

ভিন্ন ভিন্ন বছরে সর্বোচ্চ গোল
রোনালদো তার ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে প্রত্যেক বছর গোল করেছেন। দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত ক্যারিয়ারে গোলমুখের সামনে ছিলেন অদম্য।

তার এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কাউকে না কাউকে তরুণ বয়সে খেলা শুরু করতে হবে এবং লম্বা সময় ধরে খেলে যেতে হবে এবং কোনো বছর গোল করায় বিরতি দেওয়া যাবে না।

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়তে না পারলেও রোনালদো কিন্তু ইউরোতে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। ১৪ গোল করেছেন তিনি ইউরোপ সেরার মঞ্চে।

পর্তুগালের অধিনায়ক নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সের মিচেল প্লাতিনির (৯) চেয়ে পাঁচ গোল বেশি করেছেন। স্পেনের আলভারো মোরাতা ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৭টি করে গোল করে তিনে। পরবর্তী টুর্নামেন্টে তাদের বয়স হবে যথাক্রমে ৩৫ ও ৩৪, তারা কি পারবেন রোনালদোর মতো বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আরও ৮ গোল করতে? তা বলে দেবে সময়।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
রোনালদো গোল করায় সর্বোচ্চ আসনে। এমনকি ইউরোতে সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচও খেলেছেন তিনি। মানে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার দখলে।

এই রেকর্ড ভাঙাও বেশ কঠিন। কারণ টুর্নামেন্টের এক আসরে কোনো দল সর্বোচ্চ সাত ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়, ফাইনালে ওঠার হিসাবে। সেক্ষেত্রে এই রেকর্ড যিনি চ্যালেঞ্জ করবেন, তাকে অন্তত চারটি আসরে খেলতে হবে এবং ফাইনাল পর্যন্ত উঠতে হবে, পরে তাকে আরেকটি ম্যাচও খেলতে হবে, মানে ছয় আসর!

বিশ্বকাপের ভিন্ন ভিন্ন আসরে গোল
গোলকিপার বাদ দিয়ে রোনালদো ও মেসিই একমাত্র আউটফিল্ড খেলোয়াড়, যারা বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলেছেন। তবে একটি জায়গায় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ তারকা। প্রত্যেক আসরেই গোল করেছেন তিনি।

এই কীর্তি ছোঁয়া বলতে গেলে অসম্ভব। এজন্য একজন খেলোয়াড়কে প্রায় দুই দশক আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে থাকতে হবে। তার দেশকে প্রত্যেক আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং তাকে প্রত্যেকটিতে গোল করা লাগবে।

বিশ্বকাপ আসে চার বছর পরপর। তাই ছয়টি আসরেই খেলা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ, আর তার সবগুলোতে গোল করা তো আরও ভিন্ন ব্যাপার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে : রিজভী

1

সৌদি আরবে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

2

রানি মুখার্জিকে বিশেষ সম্মাননা

3

সাদা শাড়িতেও মোহময়ী মিম

4

কালো গাউন আর সাদা গোলাপে অপরূপা মেহজাবীন

5

এবার পুলিশের বিশেষ দায়িত্বে শহিদ আফ্রিদি

6

সৌদি আরবের ৮ ট্যাংকারে হামলার দাবি হুথিদের

7

কমলা শাড়িতে মোহনীয় পরীমনি

8

‘তখন বিরক্ত লাগত, এখন বাবার ওই কথার মর্মটা বুঝি’

9

তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্

10

‘বাংলাদেশকে দাস রাষ্ট্রে পরিণত করার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রু

11

পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সব মেলা স্থগিত : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্র

12

বগুড়ায় ২ হাজার ৩০০ নারীকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শাড়ি বিতরণ

13

প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান: র

14

২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে মেলবোর্নে

15

জুলাই শহীদদের ডকুমেন্টারি ঘিরে রাষ্ট্রপতির সামনেই হট্টগোল

16

তুরস্কে সালাহর নামে হচ্ছে সড়ক

17

ঢাবিতে মেট্রোরেলের তারে কাপড়, ৪০ মিনিট বন্ধ মতিঝিল-উত্তরা ট্

18

বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, শিগগিরই ঢাকা সফরে

19

ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি : প্রশাসক

20