Jahirul Hasan
প্রকাশ : Oct 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সামরিক সহায়তা দিলেও ইরান বা হুথিদের আক্রমণ করবে না তুরস্ক-পাকিস্তান

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদনের জন্য সংসদে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তুরস্ক সরকার।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামের এই চুক্তিটিতে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর মতো শর্ত রাখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেকোনো এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য হবে।

গত আগস্টে সৌদি আরবের মক্কা শহরে চুক্তিটিতে সই করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আঞ্চলিক এই তিন পরাশক্তির মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য। এর মধ্য দিয়ে তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান এবং ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী তুরস্ক একীভূত হচ্ছে।

তুরস্ক সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর কথা বিবেচনা করলেও দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ধরন সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। ইয়েমেনে যুদ্ধ করতে বা হুথিদের আক্রমণ করতে কোনো তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হবে না। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। তবে ইরানের দ্বারা আক্রান্ত হলে তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে এক জরুরি বৈঠকে এই তিন দেশ তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, তুরস্ক এবং পাকিস্তান সৌদি আরবকে সম্ভাব্য আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করছে।

এদিকে ১৬ অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সনদের আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী, বাইরের কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে দেশগুলো সামরিকভাবে একে অপরকে রক্ষা করবে। এতে যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক মহড়া, কর্মী বিনিময়, অস্ত্র উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো সহযোগিতার পথ সুগম করা হয়েছে।

চুক্তিতে একটি চমকপ্রদ ধারাও রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, চুক্তি সইকারী দেশগুলো ১০ বছরের আগে এই চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে না। এরপরও চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে হলে তিন মাস আগে নোটিশ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হচ্ছেন ডেভিড হেম্প!

1

হুতির হামলা: সৌদির পাশে থাকার অঙ্গীকার এরদোয়ানের

2

অবসর নিয়ে এখনই কোনো চিন্তা নেই মদরিচের

3

অভিবাসন ব্যয় কমা‌তে কাজ কর‌ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

4

বিজেপি সোনার বাংলাকে কারাগারে পরিণত করেছে : মমতা

5

গাজায় বিমান হামলায় হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

6

সারা দিন ব্যাট করার পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার

7

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন

8

বিশ্বকাপের পর মায়ামির অনুশীলনে যোগ দিলেন মেসি

9

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা ও ক্ষোভ ধর্মমন্ত্রীর

10

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই: দীনেশ ত্রিব

11

ব্রিকস সম্মেলনে সবার নজর কাড়বে শি জিনপিংয়ের বিশেষ গাড়ি ‘হংকি

12

গুলশান-ধানমণ্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্

13

মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তায় হরমুজ পাড়ির চেষ্টা, দুই জাহাজে হা

14

উপাচার্যদের সংলাপে অংশ নিলেন বেরোবির উপাচার্য

15

বিশ্বকাপের ঘটনায় আর্জেন্টাইনদের কঠোর শাস্তি, ফিফার সমালোচনায়

16

নোবেল পুরস্কারকে অপমান করা হয়েছে— লেখা শেয়ার করলেন ট্রাম্প

17

‘বিশ্বকাপ বিক্রি করার সম্পদ নয়’, ফিফার পরিকল্পনার সমালোচনায়

18

মেট্রোরেল লাইনে কুকুর, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন

19

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

20