ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সেখানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এডেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। সানা দেশটির রাজধানী হলেও ইয়েমিন সরকার এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের যুব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নায়েফ সালেহ আল-বাকরি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হুথিদের হামলায় দুই গার্ড নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে সরকারের মন্ত্রিসভার সব মন্ত্রী অক্ষত আছেন।
তিনি জানিয়েছেন, হুথিরা হামলা চালালেও তারা এডেন ছেড়ে যাবেন না।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদটি আল-মাশিক নামে পরিচিত। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, তারাও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। পরে জানতে পারেন প্রেসিডেন্টের প্রাসাদকে মিসাইল দিয়ে টার্গেট করা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছেন, হুথিরা এ হামলায় একাধিক মিসাইল ব্যবহার করেছে।
রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কেবল চলতি মাসেই অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই তথ্য জানিয়েছে।
ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্র ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। হামলার বিবরণ তুলে ধরে রিয়াদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি বলেন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, তেল সুবিধা ও অবকাঠামোসহ বেসামরিক নাগরিক এবং সাধারণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হুথিদের অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এদিকে, সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেছেন, দুই পক্ষের মাঝে সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে গোষ্ঠীটি ওমানে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া, আলজাজিরা, রয়টার্স