জাগো কন্ঠ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:০৫ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-কে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে জামায়াত নেতার দেওয়া অশালীন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হক। সোমবার সকালে মিরপুর-৬ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চম দিনে এক গণসংযোগে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আমিনুল হক বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কেবল বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষেই সম্ভব। তিনি জামায়াত নেতাদের সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতার মোহে পড়ে তারা কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এবং জনগণের পবিত্র আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। দেশের মানুষ আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমেই এই অপমানের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটায় এক নির্বাচনী জনসভায় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান মন্তব্য করেন যে, এক সময় ডাকসু মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা ছিল যা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করেছে। এই বক্তব্যের রেশ ধরে আমিনুল হক বলেন, যাদের নিজেদের অন্তর পরিষ্কার নয়, তারা অন্যকে নিয়ে এমন কথা বলতে পারে না। তিনি স্পষ্ট জানান, ডাকসুর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন অশালীন ও নির্বুদ্ধিতার মতো কথাবার্তা সাধারণ মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। জামায়াত নেতাদের এই ধরনের অসংলগ্ন বক্তব্যের লাগাম টানারও আহ্বান জানান তিনি।
একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় শিবির নেতার সমালোচনা করে আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠ হবে আনন্দের জায়গা, কোনোভাবেই তা শাস্তির ময়দান হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে শিশুদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ক্রীড়াঙ্গনে এমন অপসংস্কৃতি বন্ধ করে একে পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
জনসংযোগ চলাকালে তিনি মিরপুরের গ্যাস, পানি ও ভাঙা রাস্তা সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কারিগরি শিক্ষা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করে আমিনুল হক একটি মানবিক ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। এ সময় মিরপুর-৬ এর বিভিন্ন ব্লকে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
















