জাগোকন্ঠ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভেদরগঞ্জ – নড়িয়া প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কমল বিশ্বাস নামে নুসা’র নামে এনজিও ব্যবস্থাপকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের গবিন্দমঙ্গল এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত কমল বিশ্বাস (৫২) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মৃত কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তিনি নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি (নুসা) নামে একটি এনজিও সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কমল বিশ্বাস ২ বছর ধরে স্থানীয় এনজিও নুসার বিঝারী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। তিনি মাঝে মধ্যে অফিসের একটি কক্ষে রাতে ঘুমাতেন। মঙ্গলবার সকালে একই শাখার দুইজন মাঠকর্মী অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে কমল বিশ্বাসের মরদেহ ঝুলতে দেখে বাড়ির মালিক নূর ইসলাম ঢালীকে ডাকেন। পরে নূর ইসলাম ঢালী বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জব্দ করা ওই চিরকুটে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী মনজিলা, মাইনুদ্দিন ও ইতি দাস। মনজিলা আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় চুরানব্বই হাজার সাতশ টাকা নিয়ে তা স্বীকার করছে না। এর সাক্ষী মোক্তার হোসেনের নামে আরও ৮০ হাজার টাকা চেয়েছিল। তাকে না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা শুরু করে যা মিথ্যা ও বানোয়াট। সে ঝগড়াটে, মিথ্যুক, প্রতারক, অত্যাচারী, আমার মৃত্যুর জন্য সেই মূল দায়ী। মাইনুদ্দিন আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫০ টাকা নিয়ে স্বীকার করে না। সে ফাঁকিবাজ, অলস, শয়তান। সে আমার টাকাগুলো মেরে খাওয়ার জন্য মনজিলার সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ইতি দাস আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে স্বীকার করেছে। আমার মোট বেতন ও গাছ বিক্রির টাকা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫০ টাকা পাওনা। আমার মৃত্যুর জন্য কাউকে খাওয়া-দাওয়া করানোর দরকার নাই।’
বিষয়টি নিয়ে নড়িয়া উন্নয়ন সমিতির (নুসা) মানবসম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি সকালে খবর পেয়ে এখানে আসি। পরে ওনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এ ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করছি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে এক এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট লেখা কাগজ জব্দ করেছি। সেখানে এনজিওটির টাকা পয়সার বিষয় উল্লেখ ছিল। তদন্ত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
















