দেশজুড়ে

শুধু চালে চলে না ‘সংসার’

  জাগোকন্ঠ ১৮ জুন ২০২২ , ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৮৪ দিন ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয় জেলেদের। এই নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। আর জেলেরা যাতে এই সময়ে বাড়িতে থেকে পরিবার নিয়ে থাকতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার জেলেদের কার্ডের মাধ্যমে ভিজিএফের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগরে মাছ ধরতে যায় অনেকেই। আর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় জেল জড়িমানার আওতায় আনছে প্রশাসন। গত বছর উপজেলর ৯.৪১৬ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল দেওয়ায় হয়েছে জেলেদের। তবে জেলেদের দাবি যে পরিমাণে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তা খুবই সামান্য মাত্র।

বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৮৪ দিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া হাজার হাজার জেলে ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পরে। আবার অনেকেই সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই পেটের দায়ে সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাদ্য হয়ে মাছ ধরছেন।

শুধু চাল খেয়েই পরিবার বাঁচে না জানিয়ে তারা বলেন, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, অসুখ-বিসুখে ডাক্তার দেখানোসহ একটি সংসারে অনেক খরচ থাকে সেই খরচ যোগাবো কিভাবে?

জানা যায়, দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও মাছের বংশবিস্তারে সুযোগ দিতে সাগরে মাছ ধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে না হতেই আবারও শুরু হয় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পরেই আবারও শুরু হয় নিষেধাজ্ঞা। এভাবেই নিষেধাজ্ঞা পর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় জেলেদের ।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এমন উদ্বেগ কেবল জেলেদের নয়, সমুদ্রগামী ট্রলার মালিক, সামুদ্রিক মৎস্যকেন্দ্রীক ব্যবসায়ীদেরও মধ্যেও এমন উদ্বেগ আছে।

চরফ্যাসন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সরকার নিষেধাজ্ঞা সময় খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বকনা বাছুর, হাঁস-মুরগী, ভেড়া ইত্যাদি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর ২০২১ সালে ৯.৪১৬ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় ২০২২ সালে এ পর্যন্ত উপজেলায় দুই হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।

আরও খবর: