জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২২ অক্টোবর ২০২৫ , ৫:০৩ অপরাহ্ণ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপর জেলায় জাতীয় ও বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগ (NCD) নিয়ন্ত্রণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার ২২ অক্টোবর সিভিল সার্জন কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ (BHCI)-এর শরীয়তপুর জেলার বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মোঃ রেহান উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও গণ, মেডিকেল অফিসার (Disease Control), ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (BHCI), বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার (BHCI), সার্ভেইল্যান্স মেডিকেল অফিসার (BHCI) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অ-সংক্রামক রোগ (NCD) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ক্রমবর্ধমান হুমকি। কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (CVD), যা প্রধানত অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে ঘটে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ। প্রতিবছর প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক—দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১% এনসিডির কারণে ঘটে এবং গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৪% উচ্চ রক্তচাপ রোগী তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। একই সময়ে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮০% উচ্চ রক্তচাপ রোগী চিকিৎসাবিহীন থেকে যায়, যা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এই সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অ-সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (NCDC)-এর আওতায় বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ (BHCI) বাস্তবায়ন করছে। এটি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা Resolve to Save Lives (RTSL)-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে BHCI দেশের ৪৪টি জেলায় ৩১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। এ পর্যন্ত ৬ লক্ষাধিক উচ্চ রক্তচাপ রোগী এই কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত হয়ে নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছেন। কর্মসূচির ডিজিটাল হেলথ অ্যাপ “Simple”-এর মাধ্যমে রোগী ট্র্যাকিং ও ফলো-আপ আরও সহজ হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার প্রায় ২০% থেকে বেড়ে ৬০%-এ উন্নীত হয়েছে — যা জনস্বাস্থ্যে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি।
বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে WHO HEARTS Package বাস্তবায়ন। এই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিটি অন্তর্ভুক্ত করে সরলীকৃত চিকিৎসা প্রোটোকল, ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, দলভিত্তিক সেবা প্রদান এবং কার্যকর ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা, যা রোগী ট্র্যাকিং ও মনিটরিংকে আরও শক্তিশালী করে।
সভায় আলোচিত মূল বার্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা:
• মানসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে।
• উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
• রোগী ট্র্যাকিং, মনিটরিং ও নীতিনির্ধারণে তথ্য ব্যবহারের লক্ষ্যে ডিজিটাল স্বাস্থ্য সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
• বহুখাতভিত্তিক সহযোগিতা ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত ফলো-আপ সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এনসিডি হ্রাসের ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে। এই উদ্যোগ শুধু জনস্বাস্থ্য খাতেই নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হিরু/আই


















