দেশজুড়ে

মিয়ানমারে গণহত্যা: সাক্ষ্য দিতে আর্জেন্টিনা যাচ্ছেন ৭ রোহিঙ্গা

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২৮ মে ২০২৩ , ৬:২৪ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারে গণহত্যার সাক্ষ্য দিতে ৭ রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে যাচ্ছেন। যারা আর্জেন্টিনা যাচ্ছেন তারা উখিয়া ১৩ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

রোববার (২৮ মে) বিকেল ৪টার দিকে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ছেড়েছেন। আজ রাতে তারা আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (উপসচিব) মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা।

তিনি  বলেন, ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৭ রোহিঙ্গা বিশেষ অনুমতি নিয়ে আর্জেন্টিনায় যাচ্ছেন, তারা সেখানকার একটি আদালতে মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে চলমান একটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্য দেবেন বলে জেনেছি। তারা ইতিমধ্যে ক্যাম্প ছেড়েছেন।

প্রসঙ্গ, ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর, ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’ (সার্বজনীন এখতিয়ার) নীতির অধীনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত শুরু করে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগ।

মামলাটির প্রেক্ষিতে সেসময় ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন উখিয়ার বিভিন্ন  ক্যাম্পে বাস করা ৭ রোহিঙ্গা, যাদের চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বুয়েন্স আয়ার্সের আদালতে সাক্ষী হিসেবে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই মামলা ছাড়াও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিসি) বিচার চলছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক রোহিঙ্গাদের সংগঠন বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (ব্রুক), ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আর্জেন্টিনায় মামলাটি শুরুর আবেদন করেছিল।

আইসিসির তৎকালীন তদন্তের কারণে দেশটির নিম্ন আদালত ২০২১ সালের ১২ জুলাই মামলাটি  খারিজ করে। পরে, আগস্টে ব্রুকের করা আপিলের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে বাতিল করার রায় দিয়ে ওই বছরের নভেম্বরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টিনার ফেডারেল ক্রিমিনাল কোর্টের (ফৌজদারি আদালত) সেকেন্ড চেম্বার।

মামলাটির প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে ব্রুকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বার্তায় বলা হয়, আর্জেন্টিনার মামলাটি বিশ্বের কোথাও রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত প্রথম সার্বজনীন বিচারব্যবস্থার মামলা।

বার্তায় ব্রুকের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী তুন খিন জানান, গণহত্যা সংঘটনকারীরা কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না। ঘৃণ্য এসব অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জন্য সারা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ। তার দাবি, আর্জেন্টিনার আপিল বিভাগের দ্বিতীয় চেম্বার আদালত নিশ্চিত যে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা ভয়াবহ এবং সেগুলো অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।

ব্রুক ও ৭ রোহিঙ্গার পক্ষে মামলাটির আইনি লড়াইয়ে আছেন বিশ্ব খ্যাত আইনজীবী টমাস ওজেয়া কুইন্টানা।

আরাকানের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানা এই আইনজ্ঞ ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মানবাধিকারের জন্য জাতিসংঘের প্রাক্তন বিশেষ র‌্যাপোর্টার হিসেবে কাজ করাকালীন রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে ‘ইউনিভার্সেল জুরিসডিকশন’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই স্বীকৃত।

১৯৪৯ এর জেনেভা কনভেনশনে স্বীকৃতি লাভের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে এটি নির্যাতনবিরোধী সনদের (১৯৮৪) মতো আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সনদে স্থান পেয়েছে। এই নীতির আওতায় আর্জেন্টিনার আদালত অতীতে স্পেনে প্রাক্তন স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর শাসন এবং চীনে ফালুন গং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য মামলাগুলো গ্রহণ করেছে।