দেশজুড়ে

গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা জোরদারে বেরোবিতে একাডেমিক সেমিনার

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২ মে ২০২৬ , ৬:১০ অপরাহ্ণ

মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি;
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এ ফলিত বিজ্ঞান শিক্ষা আরও ব্যবহারিক ও গবেষণাভিত্তিক করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো কেকুলিয়ন রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (কেআরটিসি)-এর প্রথম একাডেমিক সেমিনার। “ব্রিজিং দা থিওরি– প্রাক্টিস গ্যাপ ইন সাইন্স এডুকেশন ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে আয়োজিত এ সেমিনারটি দুইটি সেশনে প্রায় ৪০০ জনের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়।
সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও একাডেমিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কীভাবে কমিয়ে আনা যায়।

আলোচনায় বক্তারা দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সীমিত ল্যাবরেটরি প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের দুর্বল সংযোগ, স্নাতক পর্যায়ে গবেষণার অভিজ্ঞতার অভাব এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতি। বক্তারা বলেন, এসব সমস্যা শুধু শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জাতীয় উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে কেআরটিসি একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক মডেল উপস্থাপন করে, যেখানে একাডেমিক শিক্ষা, ল্যাবভিত্তিক অনুশীলন, গবেষণা কার্যক্রম, মেন্টরিং, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমাজভিত্তিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগকে একসঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সেমিনারের রিসার্চ কোঅর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কেআরটিসি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া হোসাইন। একাডেমিক গাইড হিসেবে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহ মো. শাহান শাহরিয়ার ও ড. দিলিপ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেরোবির অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ এবং মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া সেমিনারে কেআরটিসি-এর পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কাঠামোও উপস্থাপন করা হয়। এতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি প্রার্থী, নবীন গ্র্যাজুয়েট এবং পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মেধাভিত্তিক বৃত্তি, স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণ, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ল্যাব দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশ সচেতনতা, শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং কমিউনিটি হেলথ উদ্যোগ।

সেমিনারের মাধ্যমে দেশে ফলিত বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা সংস্কৃতি এবং বিকেন্দ্রীভূত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শেষে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং শিল্পখাতের অংশগ্রহণে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

 

বেরো/আই