যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কাছে বর্তমানে অন্তত ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা রয়েছে। পরমাণু শক্তির অধিকারী হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে পিয়ংইয়ংয়ের এই শীর্ষ নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে একটি নতুন হেলিপ্যাডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতির এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, কিম জং উনের কাছে এখন ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, যা কোনোভাবেই ঘটতে দেওয়া উচিত ছিল না। ট্রাম্প দাবি করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের দুর্বল নীতির কারণেই উত্তর কোরিয়া এই সুযোগ পেয়েছে, আর তিনি নিজে সে সময় দায়িত্বে থাকলে পরিস্থিতি এমন হতে দিতেন না।
তবে বর্তমান বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, কিম পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সফল হয়েছেন এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ তার হাতে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেকোনো পরিস্থিতিতে কিম জং উনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকা ইতিবাচক বিষয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পরমাণু ক্ষমতার মালিক হতে দেবেন না, তবে কিমকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেনেন এবং বিশ্বাস করেন উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতি সামলে নিতে সক্ষম হবে।
কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে আবারও উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক হতে পারে। আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলো সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বরে চীন সফরকালে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) সম্মেলন উপলক্ষে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২১টি দেশের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংয়ের নেতার সঙ্গে সম্ভাব্য এই বৈঠকের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন যে, তিনি এই আলোচনার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি দায়িত্বরত অবস্থায় উত্তর কোরিয়ার কোনো সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সশরীরে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কিমের সঙ্গে মোট তিনবার ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত প্রথম শীর্ষ বৈঠকের পর ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের জুনে দুই দেশের সীমান্তসংলগ্ন বেসামরিক অঞ্চলে তৃতীয় ও শেষবারের মতো সাক্ষাত করেন তারা। সেই সফরেই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে পা রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র: এনবিসি নিউজ