অপরাধ

সখিপুরে জেলেদের ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ।

  জাগোকন্ঠ ৩১ অক্টোবর ২০২২ , ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের চরসেনসাস ইউনিয়নের মা’ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সকালে ইউনিয়নের তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতিতে ইনটেক বস্তা খুলে চালে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি চাল কম দেয়। এবং স্মার্ট কার্ড থাকা সর্তেও চাল পায়নি অনেকে।এতে জেলেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, রোববার (২৩ অক্টোবর) ইউপি শ্রমিকরা সরকারি ইনটেক ৩০ কেজি ওজনের বস্তা খুলে জেলেদের বস্তায় ওজন মাপা যন্ত্র ছাড়াই বালতি দিয়ে মেপে জেলেদের বস্তায় ভরে দেন। আবার তারমধ্যে আলাদাভাবে গোপন টোকেনের মাধ্যমে শতাধিক কার্ডের চাল বিক্রি করে দেন সেদিন। একই পরিবারের ২/৩ নামের কার্ডের চাল দিয়েছে কোন কোন ওয়ার্ডে।

বিক্ষুব্ধ জেলেরা ওজনে কম দেওয়ার ও অনেকের চাল না দেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাংবাদিকদের অবহিত করে।

চরসেনসাস ইউনিয়নের মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা ১৮০০ জন জেলের জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়াম্যান আনোয়ার হোসেন বালা তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের উপস্থিতিতে প্রতি জেলে পরিবারের মধ্যে ৪-৫ কেজি ওজনে কম দিয়ে বিতরণ করেন।

ওই ইউনিয়নের জেলে আলী বেপারী তার চাল ওজন করে দেখা যায় দু’মাসের ২৫ কেজির পরিবর্তে তাকে ২১ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে।

মোঃ সুলাইমানকে বিতরণকৃত চালে (৪ কেজি চাল কম) ২১ কেজি চাল পাওয়া যায়। স্থানীয় জেলেরা জানান, তাদের প্রত্যেককে নির্ধারিত ২৫ কেজি চালের পরিবর্তে ৪-৫ কেজি চাল ওজনে কম দেয়া হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মোট কার্ডের ২০০ কার্ডের চাল ইউপি সচিব কাশেম হোসেন ও চেয়ারম্যান মেম্বাররা মিলে বিক্রি করেছেন।

২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোবাহান মোল্যার স্ত্রী সাফিয়া বলেন, আমার স্বামীর স্মার্ট কার্ড আছে তবে আমাদের চাল দেয় না। আমাদের কার্ডের চাল অন্য মানুষেরে দেয়।

৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন বিভিন্ন খরচ নির্বাহের জন্য মৎস্য ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ৪-৫ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এবং আমাদের ভোটার নয় এমন কাউকে দিবো না চাল। তবে কোন কার্ডের চাল আমরা বিক্রি করি নাই।

ইউপি সচিব কাশেম বলেন আমরা কোন চাল বিক্রি করি নাই। আর ভিজিএফ চালের বরাদ্দের তালিকা চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বালা বলেন ৫ কেজি চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা জনপ্রতি জেলেকে ২৫ কেজির পরিবর্তে ২১-২০ কেজি চাল বিতরণের করছি। চাল ঘাটতি, শ্রমিকদের মঞ্জুরী ও কার্ড বঞ্চিত হতদরিদ্র দুস্থদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৪-৫ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা উপ সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তার উপস্থিতিতে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কার্ডধারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক মাপে জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান কম দিয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বিষয় লিখত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর: