জাগোকন্ঠ ১০ জুন ২০২৩ , ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
মাহাবুব তালুকদার:
শরীয়তপুরের সদর উপজেলার বুড়িরহাটের দেওভোগ গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৌশলে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সাত্তার ফকির (৫০) কে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পরে গলা টিপে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তারই সৎ ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় দিকে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দেওভোগ গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
সদ্য মৃত সাত্তার ফকির রুদ্রকর ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইনাজউদ্দিন ফকিরের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের মেঝো ছেলে। সে পেশায় ছিলেন একজন ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা চালক।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন, এসকেন্দার ফকিরের ছেলে ইমরান, বাবুল মোল্যার ছেলে মাসুম, দেলোয়ার মাদবরের ছেলে সিহাব। তাদের সকলের বাড়ি একই এলাকায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পরিবারসহ পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাতে সাত্তার ফকিরের নিজ বসত বাড়ি থেকে তারই ভাতিজা এসকেন্দার ফকির, মিলন ফকির, আরিফ ফকির ও সৎ ভাই কামাল ফকির কৌশলে রাস্তায় ডেকে নিয়ে আসে। আসার পরে কিছু বুঝো ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পিটিয়ে ও গলাটিপে ধরলে গোঙানির শব্দ শুনে সাত্তার ফকিরের মেয়ে নিপা বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখতেপান তার বাবাকে তার চাচা-চাচাতো ভাইরা মিলে মারধর করতাছে। তখন তার ডাক চিৎকারে তার মা ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে আসলে হত্যাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী মুমূর্ষু অবস্থায় সাত্তার মাদবর কে রাস্তায় পরে থাকতে দেখে সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, গত শবেবরাতের দিন নামাজে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয় শামীম এবং কামাল ফকিরের নাতি মাহফুজের সাথে। সেদিন দুজন মারামারি করলে দুজনেই আহত হয়েছিল। পরবর্তিতে মাহফুজের পরিবার শামীমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিল। সেই মামলায় শামীম জেল খেটে এখন জামিনে বের হয়েছেন। সেই শত্রুতার জেরে গতকালকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কামাল ও তার ছেলেরা সাত্তার ফকিরকে মেরে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। পরে তার পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে অভিযুক্ত আসামীর মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
সদ্য মৃত সাত্তার ফকিরের মেয়ে তানিয়া আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বাবুল মোল্যা, মিলন ফকির, আরিফ ফকির আগে থেকেই বলতে শুনেছি আমার বাবারে বাচতে দিবে না। এর আগে আমার ভাই শামিম ফকিরকে গত শবে বরাতে মারছে সিফাত, ইমরান, মাসুদ, মাইরা হাসপাতালে ভর্তি করেছিলো। আমার ভাইরে ওঁরা মাইরা শান্তি পায় নাই। আমার বাবারেও মাইরা ফেলছে। আমি আমার বাবার হত্যাকারিদের বিচার-ফাঁশি চাই।
নিহতের বোন ফরিদা বেগম বলেন, আমার ভাইরে কামাল ফকির ও তার ছেলেরা মিলে গলা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও গলাটিপে মেরে রাস্তায় ফেলে গেছে। আমার ভাই নির্দোষ আমার ভাইকে কামাইল্যারা খুন করছে। আমি অগো ফাঁসি চাই।
নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, গত শবে বরাতের দিন ওঁরা আমার ছেলেরে মারছিল। মেরে আবার উল্টা আমাদের নামে মামলা দিয়েছিল। আমার ছেলে জেল খেটে বের হয়েছে জামিনে। কিন্তু আমার স্বামীকে দীর্ঘদিন যাবত কামাল, ইমরান, মাহফুজ, আরিফ, মিলে হুমকি দিয়ে বলতো আমার স্বামীকে বাঁচতে দিবে না। গতকাল রাতে তারা প্রতিশোধ নিতেই আমার স্বামীকে বাসা থেকে ডাক দিয়ে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গলা টিপে আঁচড়াইয়া মাইরা পালিয়ে যায়। আমরা গিয়ে দেখি আমার স্বামী রাস্তায় পড়ে আছে।সামান্য তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে আমার স্বামীর প্রান কেড়ে নিলো ওরা। আমি শরীয়তপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেছি। তিনজনকে ধরা হইছে আমি চাই বাকি আসামিদের ধরে ফাঁসিতে ঝুলানো হোক, তাহলেই আমার স্বামীর আত্মায় শান্তি পাবে।
শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ঘটনা সোনার সাথে সাথেই আমরা পুলিশ পাঠাই, পরে মৃত সাত্তার ফকিরের লাশ উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেফতার করি। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে ধারণা করছি। এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাকি আট জন আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

















