দেশজুড়ে

মায়ের গহনা বিক্রির টাকায় কোচিং এ ভর্তি হওয়া শাম্মী হলেন বিচারক

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ

মায়ের গহনা বিক্রির টাকা দিয়ে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন শাম্মী আক্তার। এরপর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন তিনি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।

হার না মানা সেই শাম্মী আক্তার এখন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এবার বিজেএসসি পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ১০৩ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি হয়েছেন ৬৭তম।

শাম্মী আক্তার বলেন, আমার বড় হওয়ার পেছনে বাবা-মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। মধ্যবিত্ত পরিবারে মা চাইতেন আমি আত্মনির্ভরশীল হই এবং বাবা চাইতেন আমি বিচারক হই। কষ্টের সংসারেও আমার সব শখ পূরণ করে গেছেন। আজ বাবার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তবে তিনি বেঁচে নেই।

তিনি বলেন, আমার বোন সহকারী জজ হলেও ব্যক্তিগত কারণে অন্য চাকরিতে যুক্ত হয়েছিলেন। এরপর থেকে আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বিচারক হব। আর সেই স্বপ্নকে ছুঁতে নিরন্তর পরিশ্রম করেছি। অবশেষে সফল  হয়েছি তবে তিনি দেখে যেতে পারলেন না।

বিচারক হিসেবে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নিজ গ্রামের  জন্য কাজ করতে চান শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পায় না। আমি তাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করব। এছাড়া সুযোগ পেলে আমার গ্রামকে নিয়ে কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করব।

যারা বিচারক হতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিলাসিতা পরিহার করে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। প্রচুর ধৈর্য ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। অল্প হলেও প্রতিদিন পড়াশোনা করতে হবে। জীবন থেকে ছুটি ও অলসতা শব্দ বাদ দিতে হবে। পড়া বিষয়গুলো বারবার রিভিশন দিতে হবে।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল বলেন, বিচারক হওয়া সকলের স্বপ্ন থাকে। সফলতা পেতে পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় করতে হয়। তার এই সফলতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হবে। তাকে বিভাগের পক্ষ থেকে শুভকামনা। আইন অঙ্গণে সততার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখুক।

আরও খবর: