জাগোকন্ঠ ৭ অক্টোবর ২০২৩ , ১:১০ অপরাহ্ণ
ফেরদৌস ওনু:
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকালে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি’র জাকজমকপূর্ণ এক আয়োজনে একথা বলেন কে এম খালিদ মন্ত্রী। বাংলাদেশ নারী উদ্যোক্তাদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ই-কমার্স ফোরাম ” উই ” নামের প্রতিষ্ঠানটি নিরলস ও কঠোর প্ররিশ্রমের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে তাদের যাত্রা শুরু করে।
বর্তমানে এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৪ লক্ষ ছাড়িয়েছে। সাধারণত পিছিয়ে পড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্যোগী ও উদ্যমী ভূমিকা পালন করছে এ প্রতিষ্ঠানটি । সংগঠনটির পেছনে মূল কারিগর হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা। আগত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী খালিদ, নাসিমা-সহ ‘উই’ এর সকল নারী উদ্যোক্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সাধুবাদ জানান।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী শুক্রবার সকালে বসুন্ধরা আইসিসিবি ‘ এর নবরাত্রি হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ এর সহযোগিতায় উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (৬-৭ অক্টোবর) ‘৪র্থ উই সামিট ২০২৩’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, উই উৎসাহ উদ্দীপনা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারী সমাজকে প্রতিষ্ঠিত ও ব্যপকভাবে সম্পৃক্ত করে আসছে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে এও বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অর্থনৈতিক মুক্তিতে দেশে অধিক সংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরির কোন বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) জি এস এম জাফরুল্লাহ এনডিসি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে যুক্ত করে বলেন, নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মমর্যাদা সৃষ্টিতে ই-কমার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে ই-কমার্সের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ‘উই’। পলক এমপি আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে ই-কমার্স ছিলো আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আইসিটি মন্ত্রী বলেন, ‘শী পাওয়ার’ প্রজেক্টের মাধ্যমে ২১টি জেলায় ১০ হাজার ৫০০ জন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। বাকি ৪৩টি জেলায় ‘হার পাওয়ার’ প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও ২৫ হাজার স্মার্ট নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ এর নিয়ন্ত্রক (যুগ্মসচিব) এ টি এম জিয়াউল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তৃতা রাখেন বিশ্বব্যাংক এর অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার খন্দকার তাসফিন আলম, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর পরিচালক ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা ও উই’র উপদেষ্টা কবির সাকিব। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন উপস্থাপিকা শান্তা জাহান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর উপর নির্মিত ‘মুজিব আমার প্রেরণা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়া উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) এর কার্যক্রম এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
নারী জাগরণে অর্থনীতির চাকা এবং পশ্চাৎপদ নারীদের এগিয়ে চলতে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করবে ” উই ” সেক্ষত্রে বৃহৎ এ সংগঠনটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে কার্যকরী আরও পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করাই যায়।


















