দেশজুড়ে

ভেদরগঞ্জে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার ইউএনও-এসিল্যান্ড

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২ নভেম্বর ২০২২ , ১০:১১ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুব তালুকদার:

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরের জায়গা দখল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্বলিত ছবি ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন ও সরকারি খাস জমি উদ্ধার করতে গিয়ে মীর গোলাম মোস্তফা নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এসিল্যান্ড ইমামুল হাফিজ নাদিম। এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর আব্দুল হাই গুরুতর আহত হন।

মঙ্গলবার (০১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে রামভদ্রপুর ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতে সাড়ে ৮টার সময় রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এঘটনায় অজ্ঞাত নামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমিতে স্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দকৃত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরিদর্শনে যান রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রামভদ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্না মীর মালতসহ ৪/৫ জন এসে ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। রেজা শাহ আলম বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করে। পরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই হামলাকারীদের নিষেধ করলে তাকে ‘রাজাকার’ বলে কটাক্ষ করে এবং মারধর করে। এ সময় তারা ওই প্রকল্পে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত সাইনর্বোড ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করে মীর গোলাম মোস্তফা বাহিনী। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। রাতে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা নিজে বাদি হয়ে আরোএকটি মামলা করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্না মীর মালতের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ভেদরগঞ্জ থানার (সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মোস্ফিকুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ চার জনের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রামভদ্রপুরে সরকারি খাস জমিতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরিদর্শন ও সরকারি জমি উদ্ধার করতে গিয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মীর গোলাম মোস্তাফার হামলা শিকার হয়েছেন। এসময় তারা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বলে গালিগালাজ ও মারধর করে। খবর পেয়ে আমি ও এসিল্যান্ড গেলে আমাদের ওপর হামলা করে।

আরও খবর: