দেশজুড়ে

ফুলবাড়ীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রিজনজীবন বিপর্যস্ত, দুর্ভোগে খেঁটে খাওয়া মানুষ, ৫দিন থেকে দেখা মেলেনি সূর্যের

  জাগোকন্ঠ ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ , ৪:১৮ অপরাহ্ণ

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শীতের তীব্রতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলেছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। গতকাল শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ ও বাতাসের গতি ০১ নটস এবং সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ ও বাতাসের গতি ০২ নটস রেকর্ড করেছে দিনাজপুর আবহাওয়া অধিপ্তর। যা জেলায় এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে গত শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ ও বাতাসের গতি ০১ নটস এবং সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ ও বাতাসের গতি ০৩ নটস রেকর্ড করেছে দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তর। তবে গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গত বুধবার (১০ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়দিন থেকে ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা কমেই আসছে।
এদিকে গতকাল শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি ফুলবাড়ীসহ আশাপাশের উপজেলাগুলোতে। ফলে গত পাঁচদিন থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি ফুলবাড়ীসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে। ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকদের আয় কমে গেছে। ঘনকুয়াশা আর হিমশীতল বাতাসের কারণে কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় দুস্থ পরিবারগুলো। গবাদিপশুগুলোও শীতের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে। চট দিয়ে ঢেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন মালিকরা। সন্ধ্যারাত থেকে ঘনকুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারি গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়েই দিনের বেলাতেও ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে।
নৈশ্যপ্রহরী আব্দুল আউয়াল বলেন রাত ৯ টা থেকে সকাল পর্যন্ত পৌর এলাকার মার্কেটগুলো নিরাপত্তার জন্য পাহারা দিয়ে থাকেন। রাতে ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে পাহারা দেওয়া একটু কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
রিকশাচালক আফজাল হোসেন বলেন, যত শীতই হোক, নিজরে ও পরিবারের লোকজনের খাবার জোগার করতে ঘর থেকে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয়। রিকশা না চালালে খাব কী?
ইজিবাইক চালক রমজান আলী বলেন, সকালে কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। গাড়ীগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। উপজেলা পরিষদ সড়কের ভুট্টুর চা দোকানের সামনে খড়কুটো, পরিত্যক্ত কাগজ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন বেশ কয়েকজন। তারা জানান, ভোর থেকেই ঠান্ডা বাসাত, তাই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা তাদের।
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ ও বাতাসের গতি ০১ নটস এবং সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আদ্রতা ৯৭ শতাংশ ও বাতাসের গতি ০২ নটস রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন। জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।