ক্যাম্পাস

চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বেরোবিতে সমাবেশ

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২০ মে ২০২৬ , ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি;

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মুছে ফেলা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বেরোবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অংকন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী গ্রাফিতি অংকন করেন।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা আশঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, দুই শ্রেণির মানুষ জুলাইকে ধারণ করতে চাচ্ছে না। একদিকে যারা জুলাইয়ে পরাজিত হয়েছে, অন্যদিকে যারা জুলাইয়ে নিজেদের উল্লেখযোগ্য অবস্থান খুঁজে পাচ্ছে না—তারা জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা।”

তিনি আরও বলেন, “তারা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখতে চায়, ছাত্র-জনতা এখনো জুলাইকে ধারণ করে কিনা। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়। এ দেশের ছাত্র-জনতাই জুলাই অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে এবং তারাই জুলাইকে ধারণ করবে।”

শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, “জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলা মানে আমাদের কণ্ঠস্বর মুছে ফেলার চেষ্টা। তাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবার নতুন করে জুলাইয়ের গ্রাফিতি আঁকতে একত্রিত হয়েছে। আমরা চাই, দেশের মানুষ আবারও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করুক।”

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক সমন্বয়ক আশিকুর রহমানও। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় গ্রাফিতি করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বাকস্বাধীনতার একটি নতুন জায়গা পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবারও শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রং কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং নারী শিক্ষার্থীদেরও হেনস্তা করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে নতুন করে গ্রাফিতি অংকন করেন।

 

 

বেরো/আই

আরও খবর: