জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ১১ জুলাই ২০২৫ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ
কুবি প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আয়োজিত “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রথম প্রতিরোধ দিবস” অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক ও কুবির সাবেক শিক্ষার্থী কামরুল হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-২০০৭ সেশনের শিক্ষার্থী।
আজ শুক্রবার (১১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠান চলাকালে ‘মুরাদনগর ছাত্রকল্যাণ পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে ফুল দেওয়ার অনুরোধ করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহকে। এসময় তিনি উপ-উপাচার্যের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বললে, কামরুল তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব অনুযায়ী তাকে উপ-উপাচার্যের অনুমতির কথা বলি। তখনই কামরুল আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর উপ-উপাচার্য অনুমতি না দিলে তাকেও লক্ষ্য করে একই হুমকি দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদার একটি অনুষ্ঠানে এমন হুমকি উদ্বেগজনক। আমি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক আল নাহিয়ান বলেন, ‘আমি স্পষ্ট শুনেছি, কামরুল সঞ্চালক ও প্রো-ভিসিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। প্রোগ্রামের নির্ধারিত সূচির বাইরে ফুল দিতে চাওয়ায় তাকে বাধা দেওয়া হয়।’
তবে অভিযুক্ত কামরুল হাসান দাবি করেন, ‘আমি শুধু একটু উচ্চবাচ্য করেছি, কিন্তু কাউকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিইনি।’
এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, কামরুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হলেও ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চলে আসার পরেও ক্যাম্পাস ছাড়ছেন না। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শরিফুল করিমের কুমিল্লা শহরস্থ বাসায় থাকেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সরবরাহ করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন শিক্ষককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটাক্ষ করে থাকেন। এছাড়াও শরিফুল করিমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির জন্য বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে তিনি দৌঁড়ঝাঁপ করেছেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে উপাচার্য হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় কামরুল হাসান ও শরিফুল করিম একসঙ্গে দৌঁড়ঝাঁপ করেছেন। এ ঘটনাতেও শরিফুল করিমের ইন্ধন থাকতে পারে।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার সখ্যতা থাকলেও আজকের ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ রয়েছে শরিফুল করিম তাকে বাসায় আশ্রয় দেন বিষয়টি সঠিন নয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামালকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ‘ আমরা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করা হবে এবং আমরা প্রশাসনকে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, কামরুল অতীতেও একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন এবং তদবির করেছেন। তার দাবিগুলো অগ্রাহ্য হলে তিনি প্রশাসনের প্রতি সবসময়ই বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মঈন এবং বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক হায়দার আলীর সময়েও তার এমন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া কখনো নিজেকে আওয়ামী লীগপন্থী, আবার কখনো বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সঙ্গে তার একটি জন্মদিনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ’র সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।












