দেশজুড়ে

ভেদরগঞ্জে খাস জমি অনাবাদি থেকে আবাদি করার দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

  জাগোকন্ঠ ২২ জানুয়ারি ২০২৩ , ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুব তালুকদার:

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আরশিনগর ইউনিয়নের মাদবরকান্দি গ্রামে তেইশ একর সরকারি খাস জমি অনাবাদি থেকে আবাদি জমিতে পরিণত করার দাবিতে মানব বন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষক কৃষানীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যমান কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরের অভিযাত্রায় কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ এবং নীতি-সহায়তা ও প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। যে কোন মহামারিতে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার, করতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে; এই নির্দেশনা পালনে কৃষিবিদগণের কর্মতৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে।’

১৬ জানুয়ারী (সোমবার) বিকাল ৩ টার দিকে আরশিনগর ইউনিয়নের মাদবর কান্দি গ্রামে অনাবাদি খাস জমিতে তারা ঘন্টা ব্যপি মানববন্ধন করেন। এসময় তারা ঐ গ্রামের ১ নং খতিয়ানে ২৩ একর সরকারি খাস জমি অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমি থেকে আবাদি জমি হিসাবে পরিনত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার কাছে আবেদন জানান। জমিটির ১নং খতিয়ানে বিআরএস দাগ নম্বার: ৩৫৪৬,৩৫৭৩,৩৭২৬,৩৭২৯,৩৭৩০,৩৮১০।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এ জমিটি দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত ইরি ও বোরো ধান চাষ করা হতো। এখানে প্রায় ১০০ কৃষক বাঁচে এই জমিগুলাতে চাষাবাদ করে। শুধু ধান না গবাদিপশু গরু ছাগল সহ অনেক প্রানীর খাদ্য উৎপাদন হয় ধানের কুড়া থেকে। তবে প্রায় ৪ বছর হয় এই জমিতে কেউ ধান চাষ অথবা ফসল ফলাতে পারছেনা। একটা পক্ষ এই জমিতে মাছের “ঘের করতে চায়। তবে জমিটির উত্তর পাশেই রয়েছে একটি বড় মাছের “ঘের। একারনে জমিটিতে সারা বছর পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে গত ১১ জানুয়ারি জমিটিতে এই ভূমি সরকারি সম্পত্তি শিরোনামে একটি সাইনবোর্ড দিয়ে মৌখিকভাবে ইরি ধান চাষ করার অনুমতি দেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইমামুল হাফিজ নাদিম। তবে পরদিন ইরি ব্লকের ডিপ কুপার সময় ঐ এলাকার খাদিজা বেগম বাধা প্রদান করে।

কৃষানী সালমা আক্তার বলেন, আমরা গরিব মানুষ আমরা ক্ষেতি গিরস্থালি কাজ করে খাই। এখানে আমারা মাছ চাই না ভাত চাই। তাই মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা আবেদন জানাই আমাদের যদি এই জমিতে ধানচাষ করার সুযোগ দেন।

কৃষক মোক্তার চকিদার বলেন, আমরা ২০ বছর ধরে মাঝিগো থেকে এই জমিগুলাতে খাজনা দিয়ে আমরা ধান লাগাইছি। এখন চার পাঁচ বছর ধরে এখানে ধান লাগাতে পারি না। এখন জমিগুলা খাস খতিয়ানে চলে গেছে। মাঝিরা এই জমিতে মাছের ঘের করতে চায়।আমাদের ভেদরগঞ্জ উপজেলার টিওনো অনুমুতি দিয়ে গেছে ধান চাষ করার জন্য। তবে বাবুল মাঝী, দানু মাঝী ও খাদিজা বেগম বারবার বাধা দিচ্ছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার কাছে আকুল আবেদন আমাদের ধান লাগানোর জন্য অনুমুতি দেন।কৃষক বাঁচলে আমরা সবাই বাঁচবো।

কৃষক নুরউদ্দিন সরদার বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদের কৃষক নাকি ভালো থাকে শুনি। তবে আমরা আজ চার বছর হয় এই জমিতে কিছুই চাষ করতে পারছিনা। বিগত আমলে ২৫ বছর আমরা মাঝিগো থেকে খাজনায় জমি খাইছি। এখন যেহেতু খাস খতিয়ানে চলে গেছে জায়গা। এখন ইউএনও স্যার সরেজমিনে দেখে আমাদের ইরি ধান করতে বলেছে। এখন ইরি ব্লকের ডিপ গাড়ার জন্য অনুমতি দিয়ে গেছে স্যার। তবে একজন মহিলা খাদিজা বেগম আমাদের চাষাবাদ করতে দিচ্ছেনা। তারা ভেদরগঞ্জের মাছ ব্যবসায়ী দিলীপ ও বাদলের কাছথেকে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে মাছের ঘের করার জন্য। তবে সরকারি জমিতে কিভাবে মাছের ঘের করবে। আমরা মাছ চাই না ভাত চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন তিনি যেন এই জমিটুকুতে ইরি ধান চাষ করতে পারি সে ব্যবস্থা করে দিতে।

এ বিষয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, “খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার জন্য যতটুকু সম্ভব খাদ্য উৎপাদনে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই নির্দেশনা অনুযায়ী ভেদরগঞ্জ উপজেলার কোথাও যেন এক ইঞ্চি জমি অনাবাদি পরে না থাকে সেলক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস, ভেদরগঞ্জ কাজ করে যাচ্ছে। সখিপুরের আরশিনগরের ২৩ একর সরকারি অনাবাদি জমিতে বোরোধান চাষ করলে জমিটি উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে এবং ধানের অধিক ফলনে ভূমিকা রাখতে পারবে।”

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন এক ইঞ্চি জমিও যেনো অনাবাদি না থাকে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কর্তৃক সমন্বিত কৃষি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যত অনাবাদি খাসজমি রয়েছে তা স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে চাষের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করছে। আরশিনগর ইউনিয়নে যারা মানববন্ধন করেছেন তাদের বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তারা যেনো চাষ করতে পারেন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আরও খবর: