জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২ জুলাই ২০২৫ , ১২:৩১ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ওসমান :
ডিপ্লোমাধারীদের সিডিসি প্রদানের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল, ভিসা সমস্যা সমাধান এবং বেকার ক্যাডেট ও রেটিংসদের চাকুরী নিশ্চিতকরণের দাবিতে মেরিনারদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ জুলাই) বুধবার বিকাল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মেরিনার্স কমিউনিটির উদ্যোগে দুবাইয়ের ট্রানজিট ভিসা সমস্যার সমাধান, বেকার ক্যাডেট ও রেটিংসদের চাকুরী নিশ্চিতকরণ এবং ডিপ্লোমাধারীদের সিডিসি প্রদানের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ৫ দফা দাবি আদায়ের মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় অর্থনীতিতে মেরিন সেক্টর চরম সংকটে ৫ দফা দাবি জানালেন বাংলাদেশের নাবিকরা।
বক্তারা জানান, প্রতিবছর এ সেক্টর থেকে গড়ে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক আয় অর্জিত হয় (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক)
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ খাত এখন ধ্বংসের মুখে। বর্তমানে ভিসা সমস্যাসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য বিদেশি জাহাজে কাজ পাওয়ার সুযোগ ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে।
“পরীক্ষককে অবশ্যই বৈদেশিক জাহাজে চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং অনুমোদিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করিতে হইবে।” (সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি গেজেট, নৌযান বিধিমালা ২০২১, ধারা ৩৬) অন্যদিকে, International Maritime Organization (IMO)-Gi STCW মানদণ্ডে বলা হয়েছে: Only those completing officer training programs that fully comply with STCW Code Section A-III/1 and are approved by the administration shall be eligible for certification. সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে মেরিন একাডেমি ব্যাতিত অন্যান্য প্রার্থীদের জাহাজে যোগদানের পূর্বে কোন অনুমোদিত মেরিটাইম প্রতিষ্ঠান হতে ২৪ মাসের ট্রেনিং করা বাধ্যতামুলক। এই অবস্থায় মাত্র ৬ মাসের ট্রেনিং করে ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজির ছাত্রদের অফিসার সিডিসি প্রদান এক ধরনের বৈষম্য। কেননা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অধিনস্থ কোন প্রতিষ্ঠান না হয়েও সম্পূর্ণভাবে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের অপচেষ্টা আমাদের মেরিন সেক্টররের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করবে।
এই সিডিসি ইস্যুএর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে; বাংলাদেশ এর হোয়াইট লিস্ট থেকে বাদ পড়তে পারে; আন্তর্জাতিক ম্যানিং এজেন্সিগুলোর আস্থা হারিয়ে যাবে; যোগ্য ক্যাডেটদের প্রতি চরম বৈষম্য হবে। এবং সামগ্রিকভাবে দেশের মেরিন খাতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ধ্বংস হবে।
Philippines Maritime Industry Authority Ges India DG Shipping অতীতে অনুরূপ ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কড়া আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং পরবর্তীতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
৫ দফা যৌক্তিক দাবিঃ
বাংলাদেশের মেরিন পেশাজীবীরা ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও মান রক্ষার দাবিতে নিচের ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন: ১. ডিপ্লোমাধারীদের ক্যাডেট সিডিসি দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি কোন ভাবেই বাস্তবায়ন করা যাবে না, এই ব্যাপারে নৌ মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যাডেট ও রেটিংস রিক্রুটমেন্ট বন্ধ করে চাহিদাভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করতে হবে। পূর্ববর্তী ব্যাচের শতভাগ অনবোর্ড না হলে নতুন ব্যাচ রিক্রুট বন্ধ করতে হবে এবং তা গেজেট আকারে কার্যকর করতে হবে।
৩. ভিসা সমস্যা সমাধান ও বিদেশি চাকরির বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
৪. নাবিক প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের অবৈধ লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
৫. ভেনেজুয়েলাতে বন্দি ক্যাপ্টেন মাহবুবকে অতি দ্রুত মুক্ত করে আনতে হবে।
বাংলাদেশের মেরিন সেক্টর শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি হাজারো দক্ষ তরুণের কর্মসংস্থানের প্রতীক এবং দেশের গৌরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ন্যায্যতার প্রশ্নে আপোষ করে, অনুপযুক্ত নীতিনির্ধারণ এবং চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি দেশের মর্যাদা ও আস্থা গড়ে ওঠে তার পেশাজীবীদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার সক্ষমতার মাধ্যমে। মেরিন সেক্টরেও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই আজ সময় এসেছে, বাস্তবতার নিরিখে এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ডের আলোকে একটি সঠিক, সুবিন্যস্ত ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা গ্রহণ করার। আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের প্রতি আহ্বান জানাই। তারা যেন অবিলম্বে প্রস্তাবিত অনিয়ম, বৈষম্যমূলক ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্তটি বাতিল করে, ৫ দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এটি শুধুমাত্র আমাদের পেশার স্বার্থে নয়, বরং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, বৈদেশিক আয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমাদের
অবস্থান রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশ মেরিনার্স কমিউনিটি’র মুখ্য সংগঠক মাষ্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন রেদওয়ান সিকদার এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জননেতা জোনায়েদ সাকি, গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা কমরেড সাইফুল হক, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি)’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সদস্য মাষ্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন আতিকুল আজম, বাংলাদেশ মার্চেন্ট শিপিং ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা, ন্যাশনাল মেরিটাইম এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চীফ ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুর রহমান, মেরিন ফিসারিজ একাডেমি এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের সভাপতি চীফ ইঞ্জিনিয়ার রইজ উদ্দিন।
















