দেশজুড়ে

অতুলপ্রসাদ-আবু ইসহাক সাহিত্য-সংস্কৃতি পুরস্কার ২০২২ পেলেন পাঁচ গুণিজন

  জাগোকন্ঠ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ১২:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শরীয়তপুরের পাঁচ লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি পেলেন অতুলপ্রসাদ-আবু ইসহাক সাহিত্য-সংস্কৃতি পুরস্কার ২০২২। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, ব্রজেন্দ্র কুমার দে (মরণোত্তর) পালাসাহিত্যে ; তালুকদার মহিবুল, কবিতায়; খুরশীদ আলম (মরণোত্তর), কথাসাহিত্যে; মীর মো. শাহ্জাহান, ইতিহাস আশ্রয়ী গদ্যে এবং ওস্তাদ শামসুর রহমান, যন্ত্রসঙ্গীতে।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার তোপখানা রোডস্থ মমতাজউদ্দীন সভাঘরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ঢাকাস্থ শরীয়তপুর লেখক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি মিজানুর রহমান গ্রামসি, সহসভাপতি ফনীন্দ্রনাথ রায়, সহসভাপতি ও জুরিবোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ কামাল, সাধারন সম্পাদক রোকন রেহান, পরামর্শক শিব শংকর মোদক, অর্থসম্পাদক আবু তালেব, সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত আলোচনাপর্ব শেষে জুরিবোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। পালাকার ব্রজেন্দ্র কুমার দে ১৯০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার গঙ্গানগরের গয়ঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে অর্থনীতিতে এমএ এবং ১৯৩৭ সালে বিটি পাস করেন। তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি এক’শ এরও অধিক যাত্রাপালা রচনা করেন এবং পালা সম্রাট উপাধীতে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭৬ সালের ১২ মার্চ কলকাতায় মৃত্যবরণ করেন।

তালুকদার মহিবুল ১৯৪৫ সালে গোসাইর হাট থানার হাটুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ‘তবুও প্রতীক্ষায়’, মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস ‘মুক্তিযুদ্ধে নুরুনের উপাখ্যান’ অন্যতম।

খুরশীদ আলমের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ মার্চ ডামুড্যা উপজেলার প্রিয়কাঠি গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি প্রশাসন ক্যাডারে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। ২০০৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ১২ টি উপন্যাস, ৬ টি গল্পগ্রন্থ এবং একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

মীর মো. শাহ্জাহান ১৯৪১ সালের ২৯ ডিসেম্বর নড়িয়া থানার পাইকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কারাগারে চাকরির সুবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভ করেন। তার মোট ১০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আলোচিত গ্রন্থ ‘কারাগারে শেখ মুজিব তার জীবন ও রাজনীতি’।

ওস্তাদ শামসুর রহমানের জন্ম পালং থানার বিলাশখান গ্রামে ১৯৫২ সালে। তিনি বাশি ও সানাই দুটাতেই দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে যোগদেন এবং ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৯ সালে শিল্পকলা পদকে ভূষিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য শরীয়তপুরের দুই মহান ব্যক্তিত্ব অতুল প্রসাদ সেন ও কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের স্মরণে এই সংগঠনের উদ্যোগে ২০২১ সাল থেকে অতুলপ্রসাদ-আবু ইসহাক সাহিত্য-সংস্কৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়ে আসছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মাঝে পদক বিতারণ করা হবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৯ সদস্যের একটি জুরিবোর্ডের মাধ্যমে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মনোনীত করা হয়েছে।

আরও খবর: