রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৮৯ মিনিট পর্যন্ত সমতায় ছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। এরপর গোল হজম করে তাদের হারের ক্ষত আরও বড় হয়ে এসেছে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর লাল কার্ডের কারণে। তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্তটি অবশ্য বিতর্কিত। যে কারণে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শেফিল্ডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।
চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ৪১ ও ৫৪ মিনিটে শেফিল্ডের জালে বল পাঠায় পোর্টসমাউথ। ৫৯ মিনিটে ব্যবধান কমায় হামজার দল। ৬৭ মিনিটে আরেক গোল করে শেফিল্ড সমতায় ফেরে। তবে ৮৯ মিনিটে তাদের স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচে ফের ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পোর্টসমাউথ। তবে শেষদিকে তাদের বক্সে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়কে জার্সি ধরে টেনে ফেলে দিলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি।
এর আগে বিরতির আগমুহূর্তে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে হামজাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রতিপক্ষ ফুটবলার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইন বাংলাদেশি তারকার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে যাওয়ার পর পড়ে যান। সেই ঘটনায় ফাউল দেন রেফারি এবং হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ওয়াইল্ডের দাবি, শুরুতে রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত বদলে কার্ড দেখান তিনি। তাই ওয়াইল্ডারের প্রশ্ন– ওই পরিস্থিতিতে হামজার জন্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব ছিল কি না। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াইল্ডার বলেন, ‘হামজা আর কোথায় যাবে? সত্যি বলতে আমি বুঝতেই পারছি না, হামজার যাওয়ার জায়গাটা কোথায় ছিল!’
যদিও রেফারির সমালোচনা করতে গিয়েও পুরোপুরি ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারার অপারগতাও প্রকাশ করেন শেফিল্ড কোচ। তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তে হামজার কোথায় থাকার কথা ছিল আমি বুঝতে পারছি না। আমাকে খুব সাবধানে কথা বলতে হচ্ছে। কারণ অনেক কিছু হয়তো বলতে চাইলেও আমি তা বলতে পারছি না।’
এ ছাড়া শেষদিকে প্রাপ্য পেনাল্টি না পাওয়া নিয়েও ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ ওয়াইল্ড, ‘এমনকি খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে, আমাদের এক খেলোয়াড়কে পেনাল্টি এলাকায় টেনে ধরা হলো। এমনকি তার জার্সিটিও শরীর থেকে প্রায় খুলে আসছিল, যা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এগুলো আমাকে ভীষণ হতাশ করেছে।’