ক্যাম্পাস

ব্যতিক্রমী প্রচারণায় শিক্ষার্থীদের মন জয় করছে কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মো. জাহিদ হাসান

  জাগো কন্ঠ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৪২ অপরাহ্ণ

মাহমুদুল হাসান জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়–এ আসন্ন
জকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন ইংরেজি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান। ব্যালট নম্বর ৪১ নিয়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ভোট চাইছেন ব্যতিক্রমী ও পরিবেশবান্ধব প্রচারণার মাধ্যমে।

রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার পশ্চিম বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদ হাসান মনে করেন, শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত সব ধরনের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে। তার ভাষায়, “দলীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলে শিক্ষার্থীদের অটোনমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করাটাই আমার বড় যোগ্যতা।”

প্রচারণা প্রসঙ্গে মো. জাহিদ হাসান বলেন, “আমি কোনো প্যানেল বা মাদার পার্টির আর্থিক সহায়তা পাই না। তাই লিফলেট নয়, নিজের টিউশনের টাকায় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। এতে ক্যাম্পাস নোংরা হয় না, বরং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়।” সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে তিনি আশাবাদী বলেও জানান।

জকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির মধ্যে রাখাই হবে তার প্রধান কাজ। পাশাপাশি ক্যাম্পাস উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান তিনি।”

জাহিদ হাসানকে নিয়ে মন্তব্য করতে যেয়ে শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আফ্রিদা আমির নিজ ফেইসবুকে লিখে বলেন,”কাল আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়েছে তাই সেই খুশিতে আমরা ব্যাডমিন্টন খেলছিলাম। তখনই দেখি একজন ভাই প্ল্যাকার্ড হাতে সকলের কাছে দোয়া চাইছেন। আশেপাশে যেখানে প্যাম্ফ্লেটের ছড়াছড়ি সেখানে এই অভিনব পদ্ধতির প্রশংসা না করে পারছি না। ”

বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অবদানের কথা উল্লেখ করে জাহিদ হাসান জানান, প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি বিতর্ক চর্চার সঙ্গে যুক্ত। জগা বাবুর পাঠশালাকে পল্লী কবি জসীমউদ্দীন হল ফেস্টে ৩৬টি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন করা, এটিএন বাংলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন এবং ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফান্ড ম্যানেজ করে ‘বিতর্কে বিপ্লব ১.০’ আয়োজন তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এছাড়া বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন ও সামাজিক কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, ইংরেজি বিভাগ সাংস্কৃতিক সংঘ ‘চাতক’-এর সাংগঠনিক সম্পাদকসহ একাধিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। নিজ গ্রামে ‘সবুজ সংঘ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও যুক্ত আছেন তিনি।

নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত জবাবদিহিমূলক কনফারেন্স, নিয়মিত জকসু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির কাছে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, সেন্ট্রাল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অভিযোগ বক্স স্থাপন, নিরাপত্তা জোন চালু, গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠা, আবাসন ও মেডিকেল সুবিধা উন্নয়নসহ একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

জকসু সম্পর্কে নিজের ধারণা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অবহেলা থেকে উন্নতির পথে নেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ।” তার বিশ্বাস, নিয়মিত জকসু কার্যক্রম চালু হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য চাওয়া-পাওয়ার বড় অংশ আদায় করতে সক্ষম হবে।

আরও খবর: