জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ২ অক্টোবর ২০২২ , ১:৩৪ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুল ইসলাম উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন ও মানববন্ধন করেছে কৃষক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর। আজ সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সন্মেলন করেন। রাজধানীর মিরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষক লীগ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বুলবুল মল্লিক ও আওয়ামী লীগ নেতা খলিলের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার মাকসুদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। হামলাকারী পল্লবী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বুলবুল মল্লিক ও ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল।
লিখিত বক্তব্যে বলেন,আমি মোঃ মাসুদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি এবং সভাপতি-ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগ। আমার বাড়ী মাগুরা জেলা। আমি একজন ১০০% রপ্তানী মুখী গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করা একজন আওয়ামী রাজনৈতিক কর্মী।
আমার একটি প্লট আছে যাহা কালশী রোড সংলগ্ন পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া মৌজায় সিটি জরিপ
খতিয়ান নম্বর-৩৪৪৬৬, দাগ নং-৪৩৬০১, প্লাটের বৈধ কাগজ পত্র, নামজারী, খাজনা-খারীজ সবই আজে
আমার নামে, প্লটটি আমার ক্রয়কৃত।
গত (২৮ সেপ্টেম্বর) বুধবার দিবাগত রাত ২ টার সময় আমার প্লটে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সাদ্দাম ফোন করে বলে আমার উক্ত প্লটে কে বা কারা ঘড় তুলছে।
খবর পেয়ে আমি প্রথমে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্স, ইন্সপেক্টর তদন্ত কে ফোন করি। ফোনে তাদের না পেয়ে, আমি ৯৯৯ নে ফোন করি। ফোন করার পর পল্লবী থানার এস আই জিতু আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং তার সাথে আমি আমার প্লটে (ঘটনা স্থলে) ছুটে যাই। যেয়ে দেখি কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী বহিষ্কৃত পল্লবী থানার অন্তর্গত ৫ নং ওয়ার্ড এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ভূমি থেকো খলিলুর রহমান খলিল ওরুফে
কসাই খলিল ও তার সাথে ৪০/৫০ জন আমার প্লটে (জমির উপর ) ঘর নির্মান করছে। আমি তাদেরকে কাছে কারণ জানতে চাইলে খলিল তার লোকদেরকে নিয়ে আমার উপর পুলিশের সামনে হামলা করতে নির্দেশ দেয়। তারা এক সাথে ১৫/২০ জন আমার উপর হামলা করে এবং এলোপাতারি পিটাতে থাকে। এ অবস্থায় খলিল একটা দা অথবা চা-পাতী হাতে নিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয় এবং বলে শালাকে খুন করে ফেল, তখন রক্ত দেখে আমাকে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকালে নিয়ে যায় এর পর আমি অজ্ঞান হয়ে পরি এবং আমি কিছু জানি না। পরদিন সকাল ৭
ঘটিকায় (বৃহস্পতিবার) আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালের বিছানায় শোয়া। ওই দিন আমি খলিলকে ১ নম্বর আসামি সহ আরো ১৮ জনকে আসামি ও অজ্ঞাত ২০-২৫ জন কে আসামি
করে একটি মামলা করি। যার নম্বর-৮২-২৯/০৯/২০২২ইং, পল্লবী থানা।

তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্রলীগ এর পর যুবলীগ এর পর এলাকায় (মাগুরায়) আওয়ামীলীগ এর রাজনীতিতে সরাসরি কাজ করি। বর্তমানে আমি ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। তারেই পরি পেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকলীগ আজ একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে পরিচিতি লাভ পেয়েছে কিন্তু পরিতাবের বিষয় আজ আমার দল ক্ষমতায় থাকা সত্যেও আমি দলের জন্য নিবেদিত অথচ আমার বৈধ টাকায় কেনা জমি এক জন মাদক ব্যবসায়ী, চোরা কারবারি, দলে অনুপ্রবেশকারী, আমার প্লট দখল করে নিয়ে যাবে, যার কোন বৈধ কাগজ পত্র নাই, সমস্ত বৈধ কাগজ পত্র আমার নামে। আমার প্রশ্ন এটা কি মেনে নেয়া যায় ?
ঘটনার পরদিন থেকে আমার মোবাইল ফোনে বিদেশের বিভিন্ন নাম্বার থেকে বিভিন্ন সময় ফোন
আসতেছে-আমি যেন আমার প্লটে আর না যাই এবং খলিল ও তার সহযোগী তারেক এর নামে যেন
কোন মামলা না করি। যদি মামলা করি তাহলে আমাকে জানে মেরে ফেলে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করছে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে এবং প্রান নাষের হুমকি প্রদান করছে। তাদেরকে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা পরিচয় গোপন করছে শুধু একজনই পরিচয় দিয়েছে তার নাম জিসান।
আমি বর্তমানে আমার স্ত্রী, ২ কন্যা সহ জান-মাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি। যে কোন সময় আমার ও আমার জান মালের উপর মারাত্মক ধরনের হামলা হতে পারে এবং আমার জীবন নাশ হতে পারে। ইতি পূর্বে এই ঘটনার আচ করতে পেরে এবং ফোনে উল্টা পাল্টা হুমকির কারণে আমি পল্লবী থানায় পরপর ৩টি জিডি (সাধারণ ডায়রী) করি। যার নম্বরঃ
যথাক্রমে-১১৬৮, ১৬৪১, ১৬৪২ পল্লবী থানা।
সাংবাদীক ভাইরা কে এই কসাই খলিল?
সামান্য একজন কসাই ছিল যার নুন আনতে পানতা শেষ হত সেই কসাই খলিল আজ কোটি কোটি
টাকার মালিক অবৈধ ব্যবসা করে যার কাজ হল জমি দখল, বাড়ী দখল, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দখল সহ নানান অপকর্ম।
বিএনপি জামাত থেকে উঠে আসা, অবৈধ টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ এর পদ দখল করে বিভিন্ন
অপকর্ম করে বেড়ান মোঃ খলিলুর রহমান খলিল ওরফে কসাই খলিল,
২০০১ সালের পর বিএনপি জামাত ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় খলিল ছিল বিএনপির নেতা। দলের শক্তি দেখিয়ে সে জমি দখল, বাড়ী দখল, মাদক ব্যাবসা, নারী দর্শন সহ সকল অপকর্ম করে।
কসাই খলিল ২০০৬ সালে অন্যের বাড়ী দখল করতে গিয়ে (বাউনীয়ায়) এক গর্ভবতি মহিলাকে পেটে লাথি মেরে বাচ্চা সহ মহিলাকে হত্যা করেছে। যে হত্যা মামলার বিচার কাজ আজও চলমান।
আমার সংগঠন কৃষক লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এড.উম্মে কুলসুম স্মৃতী এম.পি. এর পলাশ নগরের প্লট উক্ত কসাই খলিল দখলে নিয়ে অবৈধ ভাবে ভোগ করছে।
বাউনীয়ার মেছের আলীর প্লট দখল করে কসাই খলিল বিক্রি করে খেয়ে ফেলেছে।
খলিলের স্ত্রী ইয়াসমীন বিথী যাকে সকলে ইয়াবা বিথী নামে চিনে, তার অবৈধ ইয়াবা বাজার রয়েছে যাহা কিশোর গ্যাং গঠন করে তাদের দ্বারা ইয়াবা বিথী ইয়াবার কেনা-বেচা করায়।
এই কিশোর গ্যাং সন্ধা নামলে এলাকায় পুন-খারাকী সহ ধর্শন, ছিনতাই সহ সকল কু-কর্ম করে। ৫ নং ওয়ার্ডের যে কিশোর গ্যাং বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়, যে গ্যাং সকল মহলে একটি আতংকের নাম সেই কিশোর গ্যাংই ইয়াবা বিথীর হাতে গঠনকৃত।
শুধু তাই নয় ইয়াবা বিধী এলাকার অল্প বয়সী মেয়েদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে তাদের দ্বারা কুকর্ম করায় এবং টাকার বিনিময়ে খলিল স্ত্রী ইয়াবা বিথী মেয়েদেরকে বিদেশে পাচার করে। যারা কখনও আর ঘরে ফিরে আসতে পারে নাই।
বরই পরিতাপের বিষয় আমার মামলা হওয়ার পর পরই আমার সাথে থাকা আমি সহ ফারুক হোসেন,
হাজী হারুন, মারাত্মক আহত হওয়ার পরও উক্ত কসাই খলিল বাদি হয়ে থানায় আমার নামে একটা পাল্টা মামলা করে। কিভাবে কসাই খলিল আমাদের নামে মামলা করল তাহা আমার বাধগম্য নয়। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি খলিলকে দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। অন্যথায় আমার যেকোনো ধরনের বড় ক্ষতি করতে পারে খলিল ওরুফে কসাই খলিলরা।
গত বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মিরপুর ১২ নম্বরের কালশীর স্টিল ব্রিজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে খলিল ও বুলবুল মল্লিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন কৃষক লীগ নেতা মাকসুদুল।










