দেশজুড়ে

যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে পর্যটকশূন্য ঈশা খাঁর সমাধিস্থল

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ১০ মে ২০২৩ , ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল এই সমাধি। কয়েক দশক অনুসন্ধানের পর অবশেষে বক্তারপুরে ঈশা খাঁর সমাধি আবিষ্কৃত হয়। এরপর সেই সমাধি ঘিরে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে সেখানে পর্যটকদের আসা যাওয়া নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোগল সম্রাজ্যের সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কায় ফজল গাজী তৎকালীন ভাওয়াল পরগনার বর্জাপুর (বর্তমান বক্তারপুর) নামক স্থানে একটি নৌপথাশ্রয় ও নগর দুর্গ গড়েন। ঈশা খাঁ এই বক্তারপুরে প্রায়ই অবসর কাটাতে ও মোগল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নীতি নির্ধারণের জন্য আসতেন। ১৫৮৩ সাল পর্যন্ত বক্তারপুরে ঈশা খাঁর অস্থায়ী বসতবাড়ি ছিল। বাংলায় পাঠান সেনাধ্যক্ষ মাসুম খাঁর অবস্থান কালে ১৫৮৩ সালে শাহবাজ খাঁ বক্তারপুর আক্রমণ করে ঈশা খাঁর নৌপথাশ্রয় বা নগর দুর্গটি ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীকালে যুদ্ধ শেষে ক্লান্ত বীর ঈশা খাঁ অসুস্থ‍্য হয়ে পড়েন এবং দুই-তিন মাস অসুস্থ‍্য থাকার পর ১৫৯৯ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর বক্তারপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনারগাঁওয়ের পরিবর্তে বক্তারপুরেই তাকে সমাহিত করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুর রহমান আখন্দ ফারুক বলেন, আমি ব্যক্তি উদ্যোগে ঈশা খাঁর সমাধিতে একটি সাবমারসিবল টিউবওয়েল ও একটি টয়লেট নির্মাণ করে দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া যাতায়াতের রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণসহ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের সুপারিশ করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসসাদিকজামান বলেন, ঈশা খাঁর সমাধিটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতাভুক্ত করার জন্য উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ন্যস্ত হলে তারা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগসহ সরকারি বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। ব্যক্তি উদ্যোগে মাজারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সমাধিটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতাভুক্ত করা হলে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।

আরও খবর: