জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ৩১ মার্চ ২০২৫ , ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর প্রতিনিধি:
পল্লবী থানা হেফাজতে থাকা রিয়াদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির হাসপাতালে মৃত্যু।পল্লবী থানাধীন গত (৩০ মার্চ) ২০২৫ ভোর আনুমানিক ০৩ঃ৪৫ ঘটিকার সময় সেকশন-১২,এর মেট্রো স্টেশনের নিচে জনৈক রিপন খান(৩৫), পিতা-মোঃ জাহাঙ্গীর খান, সাং-গোপালপুর, পোস্ট-গোপালপুর, থানা-কচুয়া, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমানেঃ টোলারবাগ, আবাসিক এলাকা, বাসা নং-০২, রোড-০১, থানা-মিরপুর, ঢাকা। ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে স্থানীয় জনসাধারন রিয়াদ হোসেন(২৪), পিতা-মৃত মোহাম্মদ আলী ভুইয়া, মাতা-সালমা বেগম, সাং-মুছাকাটা, থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমানে-সেকশন-১২, ব্লক-সি, রোড-৫, বাসা-২৩, থানা-পল্লবী, ঢাকা। একটি প্রাইভেটকার যাহার রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো গ-২০-৬০৭২ সহ হাতেনাতে আটক করেন।
সেই সময় প্রাইভেটকারে থাকা অজ্ঞাত ২(দুই) জন ব্যক্তি জনগনের রোষানলে পড়ে কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং উক্ত রিয়াদকে উপস্থিত জনতা তাকে এলোপাথারিভাবে মারপিট করতে থাকে। এমন সময় ক্যাপ্টেন তুর্য এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টহলরত টিম উক্ত স্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জনগনের উপস্থিতি এবং উক্ত রিয়াদকে মারপিট করতে দেখে জনগনকে নিবৃত করেন ও রিয়াদকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেন।
উক্ত তারিখ ভোর ০৪:০৯ ঘটিকার সময় সেনাবাহিনী রিয়াদকে নিয়ে পল্লবী থানার ডিউটি অফিসারের নিকট হস্তান্তর করতে চাইলে ডিউটি অফিসার রিয়াদকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখে গ্রহণ না করে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বললে সেনাবাহিনীর টহল টিম উক্ত তারিখ ভোর ০৫.৪১ ঘটিকার সময় চিকিৎসার দেয়ার জন্য কুর্মিটোলা হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিয়াদকে নিয়ে বের হয়ে যায়।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর টহল টিম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও কিংস্টন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রিয়াদকে নিয়ে একই তারিখ সকাল ০৭.০২ মিনিটে রিয়াদ এর স্ত্রী সহ তার আত্মীয়-স্বজন সহ পূনরায় পল্লবী থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে আসেন। ওই সময় রিয়াদের হাতে স্যালাইন ক্যানোলা লাগানো ছিল। সেনাবাহিনীর টহল টিম রিয়াদকে ডিউটি অফিসারের নিকট হস্তান্তর করতে চাইলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এসআই/হুমায়ুন আহমেদ রিয়াদকে গ্রহন না করে পূনরায় মেডিকেলে ভর্তি করার জন্য বললে একই তারিখ সকাল ০৭.৪৮ ঘটিকার সময় সেনাবাহিনীর টহল টিম ও থানার কিলো মোবাইল ডিউটি পার্টির ইনচার্জ এসআই/এসএম আশরাফুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স সহ সেনাবাহিনীর টহল টিমের সাথে রিয়াদকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার উদ্দেশ্যে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার রিয়াদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
সেনাবাহিনীর টহল টিম রিয়াদকে পল্লবী থানার কিলো ডিউটির গাড়িতে রেখে চলে যায়। অতঃপর কিলো ডিউটির ইনচার্জ রিয়াদ এর স্ত্রী সহ আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে রিয়াদ এর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশ ও রিয়াদের আত্মীয় স্বজনকে রিয়াদকে নিয়ে যেতে বলেন। তখন রিয়াদ এর আত্মীয়-স্বজন এর মাধ্যমে পুলিশ রিয়াদকে নিয়ে (৩১মার্চ) ১২.৫৫ ঘটিকার সময় থানায় হাজির হলে ধর্তব্য অপরাধের তথ্যের ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক থানা হাজতে রাখা হয়। (৩১মার্চ) রিয়াদ পূনরায় অসুস্থবোধ করলে রিয়াদ এর স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন সহ পুলিশের সহায়তায় তাকে রাত ১২.২৩ ঘটিকার সময় কিংস্টন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসা শেষে রিয়াদকে (৩১মার্চ) রাত ০১.০৮ মিনিটে থানা হাজতে রাখা হয়।
পরবর্তীতে রিয়াদ আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে (৩১মার্চ) ভোর ০৩.৫৫ মিনিটে পূনরায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসা রত অবস্থায় কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রিয়াদকে মৃত ঘোষনা করেন।
রিয়াদ এর মরদেহ বর্তমানে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ঢাকায় আছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জাগোকণ্ঠ’কে বলেন, পোস্টমর্টেম জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর তার আত্মীয় স্বজনরা আমাদের সাথেই ছিল।প্রশ্ন: তার আত্মীয় স্বজনরা কোনো অভিযোগ করেছে,,? না এখনো কোনো অভিযোগ করেনি।
এন/এ/আই














