জাগোকন্ঠ ১১ জুন ২০২৪ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক (রকি):
ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত এক জুন রাজধানীর পল্লবীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এন্ড কার্ডিয়াক সেন্টার ভর্তি হয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা নাদিয়া নূর (৩০ ) ভর্তির পাঁচ দিন পরেই মারা যান চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই রোগী। চিকিৎসায় অবহেলায় নাদিয়ার প্রাণ গেছে অভিযোগ করে তার স্বামী আনিসুর রহমান পলাশ বলেন, ভর্তির পরে সারা দিনে তার ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে এবং রাতে আলতা সমগ্রাফি করলে দেখা যায় পেটে ১৬ সপ্তাহের সন্তান ও সুস্থ আছে। কিন্তু পরের দিনে নাদিয়ার সারদিয়ার অ্যারেস্ট হয়।
সে ছটফট করছিল। কিন্তু রাত ১১ টা থেকে ডেকেও কোন ডক্টরকে রোগীর কাছে আনা যায়নি। বারবার ডাকার পর রাত দুইটায় ডাক্তার এসে যখন দেখলেন ততক্ষণে ওর শারীরিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে শুরু করে। আইসিওতে নেওয়া হয়।
এ সময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রুবিকে আই সিওর এম্বুলেন্সে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার।আই সি ইউর দায়িত্বরতদের এ সিদ্ধান্ত জানালে তারা পোশাক বদলের কথা বলে এই রোগীকে দুই ঘন্টা কোন ধরনের লাইন অক্সিজেন ছাড়াই ফেলে রাখে। এতে ওর অবস্থা খারাপ হলে অন্য হাসপাতালে নিতে পারিনি। এরপর পেটে বাচ্চাটা মারা যায়, নাদিয়া লাইফ সাপোর্টে চলে যায়।
হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকদের অবহেলায় প্রাণ হারায় আমার স্ত্রী, মা হারা হয়েছে আমার চার বছরের ছেলে। শুধু এ হাসপাতাল নয়, দেশের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে এসে রোগীর ভোগান্তি নিত্য চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ক্লিনিক কে সেবার নামে চলছে ব্যবসা। আর এর বলি হতে হচ্ছে রোগীদের। অতি মুনাফা লোভী এই ব্যবসাহীদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। এর বাইরে অপর চিকিৎসায় অঙ্গহানি সেবা নিতে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা তো আছেই। দেশের স্বাস্থ্য সেবায় আস্থা হীনতায়র কারণে বিদেশগামী রোগীর ভিড় বাড়ছে।, ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বিভিন্ন দূতাবাসে মেডিকেল এর বিচার জন্য যাওয়া মানুষের ভিড় ঊর্ধ্বমুখী। দেশের সরকারি হাসপাতাল ও ব্যবস্থাপনা সংকট প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। বেসরকারিতে রয়েছে আজ তার সংকট প্রতারণার ফাঁদ। উচ্চবিত্তদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাকে এসব কারণ আরো উসকে দিচ্ছে। ভালো সেবার আশায় মধ্যবিত্ত এমনকি নির্মিত মানুষও ছুটছেন বিদেশে। মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা না শোনায় বেশ কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক চিকিৎসক বিদেশে তিন দিন, ছয় দিনের ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়ে সেগুলো ও লিখে রাখেন নেমপ্লেটের পাশে। যাদের নামের পাশে এগুলোকে ডিগ্রি মনে করে রোগীরা ভিড় করেন ওই চিকিৎসকের চেম্বারে। রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকার বাসিন্দা নাজনীন নাহার বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের চেম্বারে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। আমরা সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু বারবার সন্তান পেটে আসার পর নানা জটিলতা তৈরি হয়ে গর্ভপাত হচ্ছে। আমি মানসিকভাবেও বিধ্বস্ত। গত সপ্তাহে একজন ডাক্তার দেখিয়েছি। প্রায় ৩০ হাজার টাকার টেস্ট করিয়েছি।
এন্ড্রো ক্রাইনোলজির এই বিশ্ব আমার কথাও শুনলেন না, আগের টেস্ট গুলো ও দেখালেন না। ওই টেস্টগুলো আবার দিয়ে তিনি যেখানে চেম্বার করছেন সেই হাসপাতাল থেকে করে নিয়ে আসতে বললেন। চিকিৎসকের এ ব্যবহারে আমি মানসিকভাবে আরও ভেঙ্গে পড়ি। তার স্বামী ফয়সাল আহমেদ বলেন, সমস্যায় না পড়লে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ফাক পকর জানা যায় না। সেবা দেওয়ার নামে কিছু চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ওই নীতি বাণিজ্য আমরা হারে হারে এর পেয়েছি। প্রায় দেড় লক্ষ খরচ হয়ে গেছে কিন্তু ও সন্তান না হওয়ার কারণটাই কেউ এখনো জানাতে পারেনি। ডাক্তারের কাছে গেলেই তারা শুধু টেস্টের list ধরিয়ে দেয়। সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে হাসপাতাল ক্লিনিক ব্লাড ব্যাংক। পরপর রোগী মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা চলছে বেসরকারি হাসপাতালের সেবা নিয়ে
তাই স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জানা যায় বিভিন্ন সময় অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বেশ কিছুদিন এই অভিযান চালায় পরবর্তীতে তা ঝিমিয়ে পড়ে ২০২০ সালে এমন অভিযানে নেমেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু মালিকপক্ষের চাপে অভিযান আলোর মুখ দেখেনি। ফলে অবৈধ অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ২৫ শে মে আকস্নিক ঘোষণা দিয়ে অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট জনরাও। এমনকি এ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছিল বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতি ও। ওই সময় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। লাইসেন্স নবায়নের নবায়নের সময় বেধে দেওয়া হয় কিছু প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু তারা কোন তক্তা করেনি। কারণ লাইসেন্সের নবায়ন করতে গেলেই যে সেবার শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানের সেই শর্ত অন্যের সক্ষমতা ও নেই। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের অনীহা ও রয়েছে। পরবর্তীতে অভিযানের গতি কমে এলে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে অবৈধ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। গত 6 বছরে ডেঙ্গুর ব্যাপকতা বাড়ার সুযোগ নিয়ে আবার দৌড়ত্ব বাড়লে অবৈধ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আবারও অভিযানে নামছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু সেটিও ঝিমিয়ে পড়ে। খাতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আবার ও মাঠ নামের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ছে অভিযান।
















