জাগো কন্ঠ ৯ নভেম্বর ২০২৫ , ২:০৯ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দশম গ্রেড সহ ১১-দফা বাস্তবায়নের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (০৯) নভেম্বর, রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে বাংলাদেশ টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমটিএ) এর আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতারা বলেন, দেশের সরকারি-স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ ডায়াগনোসিস কার্যক্রমের সহিত সরাসরি সম্পৃক্ত ০৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা সনদধারী মেডিকেল টেকনোলজিষ্টগণ চরম অবহেলিত। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের এখনও দশম গ্রেড প্রদান করা হয়নি। অথচ সম-শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সহ প্রায় সকল ডিপ্লোমাধারীদের বহু পূর্বেই দশম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে। অথচ সবচেয়ে স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা পালন করে থাকেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক যাবৎ মেডিকেল টেকনোলজিষ্টগণ এই ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসলেও লাল ফিতার দৌরাত্বে বারবার বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। দাবীটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মাঝে দিন দিন ক্ষোভ ও হতাশ্য বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলছেন। ফলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগে অনীহা দেখা দিচ্ছে এবং রোগীদের রোগ ডায়াগনোসিস কার্যক্রমের যে গতানুগতিক ধারা, তার পরিবর্তন আনা দূরহ হয়ে পড়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দশম গ্রেড প্রদান না করার কারণে একদিকে যেমন মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা বৈষম্যের শিকার হয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, অন্য দিকে রোগ ডায়াগনোসিস কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়ে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমটিএ এর সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু ও মহাসচিব মোঃ বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব এর নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট অংশ নেন।
এসময় লিখিত বক্তব্য পেশ করেন, সংগঠনের মহাসচিব মোঃ বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব।
লিখিত বক্তব্যে তারা অবিলম্বে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের চাকুরীর প্রারম্ভে দশম গ্রেড (দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদা) প্রদান, শুণ্য পদে দ্রুত নিয়োগ, ১৩ সনের স্থগিত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুকরণ ও দ্রুত বাস্থবায়ন, WHO-এর নীতিমালা অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি, এ্যালাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড এর পরিবর্তে ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড গঠন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের স্টান্ডার্ড সেট-আপসহ ক্যারিয়ার প্লান, আইএইচটি-তে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের জন্য আলাদা উইং/পরিদপ্তর, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট কাউন্সিল গঠন, গ্রাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের জন্য নবম গ্রেডের পদ সৃজন, নিরাপদ খাদ্য আইন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুনরায় ফিরিয়ে আনা, ইউজার ফির বন্টন নীতিমালা প্রনয়ন এবং ঝুঁকিভাতা প্রদান, ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টদের প্রাক্টিস রেজিট্রেশন প্রদান, সকল অনুষদের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের জন্য
মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স চালুকরণ, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের জন্য প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা ও বেতন কাঠামো প্রনয়ণ, আইএইচটি’র শিক্ষার্থীদের ১০০% স্টাইফেন্ড প্রদান এবং ইন্টার্ণ আতা প্রদান এবং ফিল ডেভেলপমেন্টের জন্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি দাবী অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহবান জানাথে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তারা বলেন- মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা বৈষম্যের শিকার। আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের ১৫ বছর তাদের পেশাগত কোন্যে উন্নয়ন হয়নি। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দশম গ্রেড এর ফাইল দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় লাল ফিতার দৌরাত্বে আটকে আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। সম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন সকলেই দশম গ্রেড পেয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা এই চরম বৈষম্যের অবসান চান এখনই। সমসাময়িক ডিপ্লোমাধীদের তুলনায় মেধাবী ও সবচেয়ে স্পর্শকাতর সেক্টর রোগ ডায়াগনোসিস ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম সরাসরি পরিচালনা করলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রতি কেন এই বৈষম্য? মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা মনে করে সদিচ্ছা থাকলে এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়েই মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের সশম গ্রেড প্রদান করা সম্ভব। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা বিভিন্ন সময়ে দেশের ক্লাভিলগ্নে রাজপথে দেশের স্বার্থে আন্ন্যোসন সংগ্রাম করেছে। সর্বশেষ জুলাই বিপ্লবে একজন মেডিকেল টেকনোলজির শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মেডিকেল টেকনোলি পঙ্গু হয়েছে, আহত হয়েছে এবং কারাবরণ করেছেন। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টগণ মনে করেন, আর অধিকার বঞ্চিত, অবহেলিত। দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের বিমায়া সুলভ আচরনের কারণে ধৈর্থের ভেঙে গেছে। আন্দোলন দানা বাঁধছে। মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা মনে করেন নভেম্বর-২০২৫ এর মধ্যে দশম গ্রেড বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু, তারা জন দূর্বোধ চান না। মেডিকেল টেকবেনডিীন কর্মবিরতিতে গেলে হাসপাতালে সকল প্রকার প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষ মেমোগ্রাফী, ফিজিওথেরাপী, ডেন্টাল, রেডিওথেরাপি, বস্তুখ বিতরণ ও সংরক্ষণ, স্যানীটেশন ব্যবস্থা সহ সরল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যারে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা চেখে পড়বে। ব্যাপক জনদুর্ভোগ তৈরী হবে। সাংবাদিক সমোন নেতৃবৃন্দ বলেন ময়োরি ২০২৫ এর মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের দশম গ্রেড বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মানিষ্টদের বিকল্প পথে হাঁটিয়ে হবে। প্রেমিকেল উপে অন্দোলনের কর্মসূচী দিলে নিশ্চয় চিকিওয়া বাবস্থা ব্যাহত এবং অননুমোৗগ তৈরী হবে। এই মেডিcen টেকনোলজিষ্টদের বৈষমা ও ক্ষোয় বিরশন এবং জনদূর্ভোগ এড়িয়ে চিকিশায় তন্ত্র বরখার অলিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিউদের দশম তোর বস্ত্যয়নের জন্য সাধুর কর্তৃপক্ষের এটি জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, এ কে এম মুসা লিটন, রওশন আলী রাজু, হাফিজুর রহমান ও মামুনুর রশীদ প্রমূখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যে আতিকূল হক, উদিন তুখায়, আব্দুর রব আজদ, আইনুল হক, পাইকুর রহমান মিজানুর রহমান, এমাদুল হক, অনুণ কাশেম আশিক, মেমেনী হাসান, যে মিজানুর রহমান, পেদ কাপাল মাহবুব হাসানসহ বায়ুখ নেতৃবৃন্দ।
এসময় তারা সরকারের প্রতি ১১ দফা দাবী করেন।
দাবীসমূহঃ-
১. চাকুরীর প্রারম্ভে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড (দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদা প্রদান করতে হবে।
২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নতুন পদ সুজন, অপ্রিয়ত শূন্য পদে নিয়োগ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ক্যারিয়ার প্লান বাস্তবায়ন এবং অগ্রাদিকার ভিত্তিতে ২০১৩ সনের স্থগিতকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।
৩. বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদকে ডিপ্লো মেডিকেল এডুকেশন বোর্ডে রুপান্তর করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
৪. স্বতন্ত্রতাবে মেডিকেল টেকনোলজির পরিদপ্তর গঠন করতে হবে/স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ফার্মাসিস্টদের জন্য আলাদা উইং গঠন করতে হবে।
৫. আজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টদের জন্য নবম গ্রেডের পদ সৃজন এবং সরকারী চাকুরীজীবিদের আনুপাতিক হারে পদোন্নতির নিয়ম বহাল রেখে স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ নিয়োগবিধিতে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।
৬. সকল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অবিলম্বে পূনাঙ্গরূপে মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদ চালু করতে হবে।
৭। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, আইএইচটি’র শিক্ষকদের অসঙ্গতিপূর্ণ। বেতন গ্রেড সংস্কার করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ১০০% স্টাইফেন্ড দিতে হবে এবং ইন্টার্ণ অতা চালু করতে হবে।
৮. (ক) মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট কাউন্সিল গঠন পূর্বক পেশাগত রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করতে হবে। (খ) “নিরাপদ খাদ্য আইন” খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফিরিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে হবে।
৯. বেসরকারী হাসপাতাল, শিক্ষ্য প্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিক সমূহে প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং সরকারী বেতন কাঠামো অনুসরণ করে বেতন ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে।
১০. (ক) উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারি পর্যায়ে সকল বিষয়ে বিএসসি এবং এমএসসি কোর্স চালু করতে হবে, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ডেন্টাল ও ফিজিওথেরাপীদের প্রাক্টিস রেজিষ্ট্রেশন প্রদান ও অন্যান্যদের পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রিপোর্টে স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
(খ) মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের ঝুঁকিভাতা প্রদান করতে হবে এবং বন্টন নীতিমালা প্রণয়ন পূর্বক বন্ধ ইউজার ফি চালু করতে হবে।
১১. পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিীদের বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এখনতে হবে।












