জাগোকন্ঠ ২১ আগস্ট ২০২২ , ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন সুজন হোসেন (৩০) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই আরিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে শিবালয় থানার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সুজন শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুজন হোসেনের ৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মান্নান খানের ছোট ভাই রজ্জব খান। ঘটনাটি জানার পর ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন সুজন। এরপর বিচারের দাবিতে শিবালয় থানায় গত ১৪ আগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ দেন সুজন। দু’দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তিনি। শনিবার কর্মস্থলে যাওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিবালয় থানায় যান সুজন। সেখানে থানা পুলিশের সদস্য আরিফের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সুজন।
সুজন বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন রজ্জব খান। পরে স্থানীয় মুরুব্বিরা ওই ঘটনার মিমাংসা করে দেন। এই ঘটনা আমি জানতাম না। এরপরে আবারও রজ্জব খান আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে আমি জানতে পেরে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি এবং এলাকায় মুরুব্বিদের কাছে বিচার চাই। কিন্তু তারা বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার উপদেশ দেন। এলাকায় বিচার না পেয়ে শিবালয় থানায় অভিযোগ করি গত ১৪ আগস্ট।’
তিনি আরো বলেন, ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে শনিবার বিকেলে আমি আমার মেয়ে ও মাকে নিয়ে থানায় যাই। থানায় ওসি স্যার না থাকায় আরিফ আমাকে ডাকলে তার কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলি। এরপর আমি চলে আসার সময় আরিফ পেছন থেকে আমার শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে ওসি স্যারে রুমের পাশের একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি আমাকে মারধর করেন এবং বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দিতে শুরু করেন। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি ‘
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয সার্কেল) নুরজাহান লাবানী বলেন, ‘আমি ওই ঘটনা নিয়ে আছি। ভুক্তভোগীকে আমার কাছে নিয়ে আসছি। আগের ঘটনাটি যাতে আসামি বুঝতে না পারে এজন্য টেকনিক্যাল কারণে হেল্টআপ করা হয়েছিল। আর শনিবারের ঘটনায় ইতোমধ্যে অভিযুক্ত এএসআই আরিফকে শিবালয় থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।









