দেশজুড়ে

মামলা করেই, হাসপাতাল থেকে পালালেন অন্তঃসত্ত্বা নারী

  জাগোকন্ঠ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১২:০০ অপরাহ্ণ

ভেদরগঞ্জ-নড়িয়া শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে স্বামীকে দিয়ে থানায় মামলা করিয়ে হাসপাতালে থেকে বেবী আক্তার নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্বা এক নারী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারী(রোববার) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে অন্তঃসত্বা ওই নারী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট শরীয়তপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার ৫ ঘন্টা পরেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি(রোববার) বিকালে স্থানীয় কৃষক দলিল উদ্দিন এর বরই বাগান থেকে স্কুলের ছাত্রদের চুরি করে বরই পেরে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী ফারুক সরদারের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। দলিল উদ্দিনের ছেলে এনামুল, আজিজুল, সুলাইমানসহ কয়েকজন ফারুক সরদারের বাড়ির সামনে বিষয়টি জানতে যায়। পরে ফারুক সরদার তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে একটি চাপাতি ও একটি রামদা নিয়ে তাদের তাড়াও করে। পরে দলিল উদ্দিনের ছেলেরাও ক্ষিপ্ত হয়। খবর পেয়ে দু পক্ষের মধ্য কথা কাটাকাটি হয়। পরে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল খান তার প্রতিনিধি সুজাত হোসেনকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ব্যর্থ পরে গোসাইরহাট থানা পুলিশকে খবর দেন ইউপি চেয়ারম্যান।

অন্তঃসত্ত্বা নারী বেবী আক্তার বলেন, আমার শরীর ভাল তাই ডাক্তারকে না বলেই বাড়িতে চলে আসছি।

প্রত্যক্ষদর্ষী জাফর হোসেন বলেন, আমি দেখেছি দলিল উদ্দিনের ছেলেদের রামদা ও চাপাতি নিয়ে তাড়া করে ফারুক সরদার ও তার ভাই। পরে দলিল উদ্দিন এরা ক্ষিপ্ত হয়ে তারাও তারাও করেন তাদেরকে। পরে একটা পর্যায়ে চেয়ারম্যান সুজিতকে পাঠালে বুঝিয়ে সুজিত সকলকে থামিয়ে দেয়। এরপর ফারুক সরদারের ঘর কুপাইছে কে তা আমি দেখিনি। আমি থাকা অবস্থায় ঘর কোপানোও ছিল না।

নাগেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল খান বলেন, আমি ঘটনা শুনে দুজন প্রতিনিধি পাঠাই ঘটনাস্থলে। কিন্তু ফারুক ও অপর পক্ষ কেউ তাদের কথা শুনেনি। পরে আমি পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। অন্যদিকে শুনলাম ফারুকের গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি দেওয়া হয়েছে। পরের দিন শরীয়তপুর সরকারি হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তাকে পাইনি। শুনলাম সে হাসপাতাল থেকে না বলেই চলে আসছে। পরে শুনি সে সুস্থ বিধায় তার বাড়িতে চলে আসছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মিতু আক্তার বলেন, ১১ তারিখ রোববার বেবী আক্তার নামে ৯ মাসের একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী তার পেটে আধাত লেগেছে বলেন। তখন তাকে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছিল। তাকে রোগ নির্নয়ের জন্য পেটে পরিক্ষা করতে বলা হয়েছিল।কিন্তু পরেরদিন সকালে প্রথম রাউন্ডে কর্তব্যরত ডাক্টার রোগী বেবী আক্তারকে বেডে পাননি।সে কাউকে না জানিয়েই পালিয়েছেন।

এ বিষয়, গোসাইরহাট থানার অফিসার্স ইনচার্জ পুস্পেন দেবনাথ বলেন, এঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা বিষটি তদন্ত চলছে।দুজন আসামী গ্রেপ্তার হয়েছিল। তদন্তে শেশে মুল ঘটনা জানা যাবে।

আরও খবর: