জাতীয়

নিরাপদ সড়ক ও বিচারের দাবিতে বিজয় সরণি মোড় অবরোধ

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ

প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর ফার্মগেট মূল সড়ক অবরোধের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন শুরু করে সরকারি বিজ্ঞান স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে আরও কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ফার্মগেট থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থান নেয়।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে সব কটি লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক, শিক্ষার্থীদের নিবৃত করতে ও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকারি বিজ্ঞান স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের এবং তেজগাঁও বিভাগ পুলিশকে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায়।

dhakapost

সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত তেজগাঁও বিজয় সরণি মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনের এডিসি রোবায়েত হাসান। তিনি ও কলেজ শিক্ষকরা বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে ফের ফার্মগেটে নিয়ে যান।

শহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের কলেজের সামনে দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল করে। এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার এক সহপাঠী খুন হলো। বিচার কখনো হয় না, আমরা তাই বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছি।

dhakapost

সরকারি বিজ্ঞান স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রনি বলেন, আমরা চাই নিরাপদ সড়ক। আমাদের কোনো সহপাঠী, কোন শিক্ষার্থীর যেন সড়কে নির্মমভাবে মৃত্যু না হয়। সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের।

এ ব্যাপারে তেজগাঁও জোনের এডিসি রোবায়েত হাসান বলেন, রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিজি প্রেসের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আলী হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। সে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা হয়েছে। ঘাতক প্রাইভেটকার ও গাড়িচালককে শনাক্ত করা হয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

dhakapost

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আলী হোসেন নামে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র আহত হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি বরিশালের মুলাদী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামে বলে জানা গেছে।