আইন-আদালত

নাজমা হত্যা মামলার দুই সপ্তাহেও গ্রেফতার হয়নি আসামীরা

  জাগোকন্ঠ ৩ জুন ২০২৩ , ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

শাহাদাত হোসেন হিরু (জেলা প্রতিনিধি) শরীয়তপুর:

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীর হাতে স্ত্রী নাজমা খুন হওয়ার ঘটনায় স্বামী মোহাম্মদ আলী(৪০)সহ শিখা বেগম(৩৮) গ্রেপ্তার করলেও হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী রীমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গত ১৮ মে (বুধবার) বিকালে ফতেজঙ্গপুর বাজারে মোহাম্মদ আলীর ঘরে তার স্ত্রী নাজমাকে হত্যা ঘটনা ঘটে। মামলার দুই সপ্তাহ পেরুলেও তিন জন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সাড়ে চার বছর আগে পারিবারিকভাবে মোহাম্মদআলীর সাথে নাজমার দ্বিতীয় বিবাহ হয়। পরে তাদের সংসারে একটা ছোট ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। মোহাম্মদ আলীর এর পূর্বে স্ত্রী ছিলো রিমা বেগম। সেই ঘরে তাদের দুই সন্তান ছিলো। তবে পারিবারিক কলোহের জেরে রিমা মোহাম্মদ আলীকে তালাক দিয়ে চলে যায়। ছেলে সন্তান দুইজন বাবার বাড়ি থাকত। রিমা ঢাকায় থাকত। রিমা মাঝে মাঝেই ছেলেদের দেখতে ঢাকা থেকে দেশে আসত। তখন স্বামী মোহাম্মদ আলীর সাথে আবার যোগাযোগ ভালো হতে থাকলো। পরেই দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমাকে সরানোর পরিকল্পনা করে রিমা প্রথমে মোহাম্মদ আলী নাজমাকে ৬ লাখ টাকা অফার করে যে তুমি চলে যাও রিমা তোমাকে টাকা দিতে চায়। কিন্তু নাজমা সেই অফারে রাজি হয়নি।এরপরি নাজমাকে নানা ভাবে সবসময় মারধর করতো মোহম্মদ আলী ও তার মা ভাই বোন রা। একটা ১৮ মে গত বুধবার বিকালের সময় প্রথম স্ত্রী রিমার পরিকল্পনায় নাজমাকে ঘর বন্ধি করে দরজা আটকিয়ে বেধম মারধর করতে থাকে মোহাম্মদ আলী। এক পর্যায় নাজমাকে শাড়ি কাপড়ের সুতা দিয়ে গলায় পেচিয়ে মেরে ফেলা হয়। পরে ফ্যানের সাথে একটি রশি বেধেও লাশটি ঝুলাতে না পেরে ঘরের জানালার গ্লিলের সাথে কোনরকম ভাবে ঝুলিয়ে রাখে লাশটিকে। এর পরেই মোহাম্মদ আলী নাজমার বোন বিউটিকে কল করে দিয়ে বলেন আপনার বোন অনেক অসুস্থ আপনি চলে আসেন তারাদারি। পরে নজমার পরিবার সেখানে গিয়ে দেখে লাশ খাটে শোয়ানো। মোহাম্মদ আলী বলেন জানালার গ্রীলের সাথে ঝুলতে দেখে খাটে রাখছি নাজমাকে। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে। তাতক্ষনিক স্বামী ও ও কে গ্রেপ্তার করে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে চালান করে দেয় পুলিশ।

নাজমার ফুফাত ভাই রবিউল আলম বলেন, আমার বোন নাজমাকে মোহাম্মদ আলী খুন করে প্রথমে ঘরের জানালার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে সে নাজমাকে বিছানায় শুয়াইয়া রাখে। পরে আমাদেরকে মোহাম্মদ আলী ফোন দিয়ে তার বাড়িতে নাই নেয়। বলে আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমি তাকে জানালার গ্রিলের সাথে ঝুলানো দেখি। তারপর আমি নাজমাকে বিছানায় নামিয়ে রাখি।পরেই আমাদের সন্দেহ হয় যে মোহাম্মদ আলী তোমার বোন নাজমাকে মেরে জালনার সাথে ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছে। মোহাম্মদ আলী আমার বোনকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই। মোহাম্মদ আলীর ফাঁসি চাই। ও তার প্রথম স্ত্রী রিমা বেগমের ফাঁসি চাই সে আমার বোনের কে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল।তাকে গ্রেফতার করা হয়নি দ্রুত তাকে গ্রেফতারের দাবী জানাই।

নিহত নাজবার বোন ও মামলার বাদী বিউটি বলেন, আমার বোনের সাথে মোহাম্মদ আলীর চার বছর যাবত বিবাহ হয়েছে। বিবাহ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আমার বোনকে মোহাম্মদ আলী মারধর করতো।আমার বোন গার্মেন্টসে চাকরি করতো সেখানে ডিপিএস করে ৭ লাখ টাকা মোহাম্মদ আলীকে বিদেশ যাওয়ার জন্য দিয়েছি। দোকানে মাল উঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিল আমার বোন অনেক কষ্ট করছিল সেই সংসারের জন্য । যেদিন মারা যায় আমার বোন তার আগের দিন মোহাম্মদ আলী আর আমার বোন আমাদের বাসায় আসে। মোহাম্মদ আলী বলে আমার আগের বউ রিমা কে আমার বাড়িতে তুলব।আমার বোন বলে কেন তুমি তাকে তুলবা কেন আমি সংসার সাজাইছি গো চাইছি । পরে আমার বোনকে বলেছিল যে রিমা তোকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে দিবে তুই অন্যথায় বাড়ি করে থাক। এই কথা নিয়ে তর্ক তর্কি করতে গিয়ে আমার বোনকে পরের দিন মোহাম্মদ আলী মেরে জানলার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী নিজেই সেই লাশ নামিয়ে খাটের উপরে শুয়াইয়া রেখে আমাদেরকে ফোন দিয়ে নাটক সাজিয়েছিল। কিন্তু এই হত্যার পরিকল্পনাকারী রিমা। পুলিশ দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে ঠিক আছে কিন্তু মূল পরিকল্পনাকারী রিমা কেসহ আরো দুজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা এই হত্যার বিচার চাই মোহাম্মদ আলী সহ রিমার ফাঁসি চাই।

নাজমার মেয়ে লামিয়া বলেন, আমার একটা ছোট ভাইকে রেখে আমার মামাকে মেরে ফেলেছে মোহাম্মদ আলী। আমরা এতিম হয়ে গেলাম। এখন আমাদেরকে কি দেখবে আমার মা ছাড়া বড় অসহায়। মোহাম্মদ আলীর সাথে জড়িত হত্যার পরিকল্পনা করেছিল রিমা তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।তাদের সকলকে গ্রেফতার করে আমরা আমাদের মা হত্যার শাস্তি দাবি করছি আমরা মোহাম্মদ আলী ও রিমার ফাঁসি চাই।

মোহাম্মদ আলীর ভাবি রোমা বেগম বলেন, মোহাম্মদ আলীর বউ নাজমা একজন ভালো লোক।তার সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক এই এলাকার সবার। সেদিন নাজমাকে এবং নাজমার জামাইকে

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান বলেন,আমরা মোহাম্মদ আলী হাওলাদার সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছি।হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ আলীর আগের স্ত্রী রিমা আমাদের কাছে মনে হয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনো আমাদের হাতে আসে নাই। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে যে নাজমা কি করে মৃত্যুবরণ করেছে। বাকি তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

আরও খবর: