গণমাধ্যম

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় গণমাধ্যমকর্মী

  জাগো কন্ঠ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

মো.তারেক হোসেন বাপ্পি:

একজন গণমাধ্যম কর্মীকে নির্ভুল , ন্যায়সঙ্গত ও সাহসিকতার সঙ্গে নির্বাচন কাভার করতে হবে। তেমনি নির্বাচনী প্রতিবেদন, এডিট করার ক্ষেত্রেও কোনোভাবেই দলীয় পক্ষ নেওয়া যাবে না। এর মাধ্যমে জনগণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)’র আয়োজনে ঢাকা মহানগরের সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে বক্তারা একথা বলেন।
পিআইবি’র মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নেন ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলের ৫০ সদস্য । প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন। এছাড়াও বক্তব্য দেন সমন্বয়ক সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, প্রশিক্ষক সিনিয়র সাংবাদিক জিয়াউর রহমান, আমার দেশ এর উপ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদি অনিক, সাধারণ সম্পাদক জওহর ইকবাল খান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক তারেক হোসেন বাপ্পি প্রমুখ।
ওবায়দুর রহমান শাহিন বলেন, সাংবাদিকতায় তথ্য যাচাইয়ের অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং নীতি-নৈতিকতার কোন বিকল্প নেই।
সুলতান মাহমুদ গণভোট, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট ২০২৬, নির্বাচন ও সংবিধান, নির্বাচনী বাজেট, ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, চার বিষয়ে এবার গণভোট হবে। এক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

দুই. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
তিন. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা ।
সংসদে নারীর প্রতিনিধি বাড়ানো, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন প্রধানন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
জিয়াউর রহমান নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচন সম্পর্কিত নীতিমালা, নির্বাচনে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচনায় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। সেসঙ্গে ২১ জেলায় কমিটি থাকতে হবে। ইসি কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর গেজেট জারি করেছে সরকার। এবারের জাতীয় নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিধান। সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘না ভোট’ পুনরায় চালু হওয়া থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মত নানা বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী ( সেনা, নৌ, বিমান ও কোস্ট গার্ড) যুক্ত হয়েছে। একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ ফিরছে। সমান ভোট পেলে লটারির বদলে হবে পুনঃভোট। জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক।
এছাড়াও নির্বাচনী জামানত ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদন্ডের বিধান থাকবে। আইটি সাপোর্টে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে। এআই-এর অপব্যবহার নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে-এমন বিধান রাখা হয়েছে।এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে দেশের বাইরে কোনো প্রার্থীও জন্য নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না।
প্রশিক্ষণার্থীদের সবার হাতে সনদপত্র তুলে দেন প্রশিক্ষকবৃন্দ ও ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ।

আরও খবর: