জাগোকন্ঠ ৯ মার্চ ২০২৩ , ৪:০২ অপরাহ্ণ
শাহাদাত হোসেন
কবুতর পালন করে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আশ্রয়নের বাসিন্দারা নিজেরাই এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। এতে প্রানীজ,আমিষের ঘাড়তি পূরন ও আস্রয়নের বাসিন্দারের জীবিকা নির্বাহের জন্য স্বল্প পরিশ্রমে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভবান হচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি শরীয়তপুরে প্রথমবারের মত গোসাইরহাট উপজেলার মহিষকান্দি ও চরধীপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের ৩৮ পরিবারের মাঝে প্রত্যেককে ২ জোড়া করে কবুতর ও একটি করে খোপ উপহার দিয়েছেন জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস তাদের প্রত্যেককে লাউ,সিম,টমেটো,করলা,বেগুন,ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ ফলের চারার মধ্যে পেয়ারা, কাঠাল আম সহ অন্যান্য চারা বীজ সার”বিতরন করা হয়। সেই বীজ থেকে ভালো ফসল হচ্ছে। আর্থিকভাবে ব্যাপক স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে আশ্রয়নের বাসিন্দারা। প্রতিদিনের খাবারে সবুজ তরিতরকারি খাচ্ছেন পাশাপাশি সিম,লাউ, বেগুন সহ বিভিন্ন সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।
সরে জমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মহিষকান্দি ও চরধীপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পে মোট ৩৮ টি ঘরে উপকারভোগী বসবাস করছেন। তাদের মধ্য একে অপরের প্রতি যেমন আন্তরিকতা দেখা গেছে। তেমনি জীবিকা নির্বাহ করতে নতুন নতুন বাণিজ্যিক কাজের উদ্দ্যেগেও কেউ পিছিয়ে নেই। আস্রয়নকেন্দ্র এখন সবুজায়নে পরিনত হয়ে গেছে।কেউ সবজি বিক্রি করে সেলাই মেসিন” কিনে জামা কাপড় তৈরি করছে। আবার ক্ষুদ্র লোন করেও হাস মুরগি, সহ নানা কর্মসংস্থান খুজে কাজ করে সংসার চালাচ্ছে। কবুতর, হাস মুরগী পালনের পাশাপাশি কেউ কেউ ছাগল পালনের উদ্দ্যেগী হচ্ছে।
মহিষকান্দি আশ্রয়ন প্রকল্পে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের বিশেষ বরাদ্দে খেলনা স্লিপার ও দোলনা স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ছোট শিশুরা বেশ আনন্দের সাথে স্লিপার ও দোলনা দুল খাচ্ছে খেলা করছে। এতে শিশুরা খেলাধুলার পাশাপাশি পড়ালেখায় অনেক মনোযোগী হবে। আগে এদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায় মনোযোগী না থাকলেও এখন প্রত্যেক পরিবারের শিশুদের স্কুলে ভর্তি করছে।
শিশু শ্রেণীতে পড়ুয়া রবিন হোসেন(৫) বলেন, আমারা খেলাধুলা করতাছি। আমরা সকাল হলেই স্কুলে যাই। স্কুলেও আমাদের খেলনা দোলনা আছে। আমরা পইড়া লেইখা বড় ক্লাসে উঠুম।
উপকারভোগী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জিবন জাপন কাটাইলাম পরের বাড়ি। আজ আমাকে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকা বিল্ডিং ঘর দিয়েছে। ডিসি স্যার, ইউএনও স্যার আমাদের কবুতর দিয়েছে। তারা আমাদের সব সময় খেয়াল খোজ রাখেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি।
উপকারভোগী তাসলিমা আক্তার বলেন, আমাদের থাকার মত কোন ঘরবাড়ি ছিলো না। মানুষের বাড়ি থাকতাম। আমার স্বামী একটা ছোট চার দোকানদারী করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখহাসিনা আমাকে পাকা ঘর দিছে। ডিসি স্যার টিওনো স্যার আমাদের কবুতর দিছে চারা ও সবজির বীজ সার ফলের চারা দিছে। আবার ১ টি ছাগল কিনে দিবে বলে গেছে এসিল্যান্ড স্যার। আমি সেলাই মেসিন চালাইয়া কাপড় চোপড় বানিয়ে কিছু টাকা ইনকাম করে সংসার চালাচ্ছি। এখন আর কোন কষ্ট হয়না আমাদের। মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
উপকারভোগী নাজমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ১৪ বছর হয় মারা গেছে। আমার একটা ছেলে নাইনে পড়ে। আমি ১০ হাজার টাকা লোন করে সেলাই মেশিন কিনছি। আমাকে সরকার সিম, লাউ সহ অনেক বীজ দিয়েছে। সেগুলার মধ্যে ৩ হাজার টাকার সিম আমি বাজারে বিক্রি করে লোন চালাইছি। কবুতর দিছে সেগুলার থেকে ডিম বাচ্চা নিজেরাও খাই আর বাজারে বিক্রি করতে পারছি। মমতাময়ী মা প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এলাকায় একটি আস্রয়ন প্রকল্প করে ভূমিহীন ঘৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাই করে দিয়েছেন। এখন দেখলাম ছাগল, কবুতর, কৃষি অফিস থেকে শাখ সবজির বীজ ফলের চারা সহ অকে কিছু। এগুলা থেকে ফসল বাজারে বিক্রি করেও এখন তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হচ্ছে। পাশাপাশি কবুতর পালনে তারা সকলেই লাভবান হচ্ছে। মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন মানবিক প্রাধানমন্ত্রী।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাফী বিন কবির জাগো নিউজকে জানান,আমাদের গোসাইরহাটে আস্রয়নে প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান স্যারের পরিকল্পনামতে এদের প্রানীজ ও আমিষের ঘাড়তি মিটাতে কবুতর এবং শাখ সবজির বীজ ও সার দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন ও কৃষি খাতকে বিপ্লব জন্য কবুতর ও কৃষি উপকরণ বিতরন করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। সেখানে দেখেছি সকলেই যার যার মত শাখ সবজি ও পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও করেছে। কারো চালে চালকোমড়া, লাউ, ঠেড়ষ সহ বিভিন্ন সবুজ সবজি হয়েছে। আস্রয়নকেন্দ্র এখন সবুজায়নে পরিনত হয়ে গেছে। আমরা আগামীতে এদের প্রত্যেককে একটি করে ছাগল”বিতরন করার উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভূমিহীন গৃহহীন প্রকল্পের বাসিন্দারাই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারবে।
এ বিষয় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, গোসাইরহাট উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩৮ টি ঘরের উপকারভোগীদের মাঝে আমরা ব্যক্তিগত প্লানিংএ প্রত্যেককে ২ জোড়া করে কবুতর বিতরন করি। তাদের কবুতর পালন করতে বেশি খরচ হবে না তাই আমাদের এই উদ্যোগ গ্রহন করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার প্রধান অঙ্গীকার তারাই।












