দেশজুড়ে

ঈদে কোরবানির মাংস ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে হামলায় আহত ৩

  জাগোকন্ঠ ১ জুলাই ২০২৩ , ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের সখিপুরের থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নে কোরবানির গরুর মাংস ভাগাভাগি কে কেন্দ্র করে হামলায় ৩জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম বাগ (৭০) কে গুরুতর আহত অবস্থায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ঈদের দিন সন্ধ্যায় সেকান্দার মাঝির গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে ও অভিযোগ সূত্র জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ১টি গ্রাম্য সমাজ পরিচালনা করে আসছিলো এ্যাভোকেট মিজান মাঝির পরিবার। ১মাস আগে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মিজান মাঝির সমাজ থেকে পৃথক হয়ে আলাদা সমাজ প্রতিষ্ঠা করে ফজলুল হক মোল্যা ও অন্যান্যরা। বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলো না মিজান মাঝির লোকজন।

বিষয়টি কেন্দ্র করে ঈদের দিন বিকালে আলাদাভাবে কোরবানির মাংস বিতরণকালে ফজলুল হক মোল্যার লোকজনের উপর ক্ষিপ্ত হয় মিজান মাঝির ভাইয়েরা। এ সময় মিজান মাঝির ভাই পুলিশের এএসআই সেলিম মাঝি ও ভাতিজা সেনাবাহিনীর সৈনিক অপু সাব্বিরসহ আরো কয়েকজন মিলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নুরুল ইসলাম বাগকে গুরুতর আহত করে। সেখানে নির্মানাধীন মসজিদের বাঁশ, কাঠ ও দেশিয় অস্র নিয়ে নুরুল ইসলাম বাগকে মারধর করতে থাকে তারা। জীবন বাঁচাতে এ সময় পানিতে লাফ দেয় সে। পরে পুকুরের নেমে তাকে ডুবিয়ে মারার চেষ্টা করে মিজান মাঝির লোকজন। এ সময় স্থানীয়ররা এগিয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়।

আহতের ভাই আব্দুল কাদির বাগ বলেন, আমার ভাইকে এর আগেও মারার চেষ্টা করেছে। আমরা মাঝিদের সমাজে থাকতে চাই না। আমরা মোল্যাদের সমাজে থাকি।আমরা তাই এবার কোরবানির গরুর মাংস আলাদা দিয়েছি। মিজানের কথা তাদের সাথে কেন দিলাম না কোরবানির মাংস। মিজান তাই তার পরিবার ও সন্ত্রাসী বাহীনি এনে ঈদের দিন আমার ভাইয়ের উপর হামলা করেছে। আমি এই হামলার বিচার চাই।

নুরুল ইসলাম বাগের মেয়ে শাহিনা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার বাবারে তারা মেরে ফেলতে চাইছিলো। বৃদ্ধ বাবাকে পুকুরে ফেলে ইচ্ছা মত মেরেছে। এখন সে হাসপাতালে ভর্তি। আমরা তাদের বিচার চাই।

প্রত্যাক্ষদর্শী সমাজপতি ফজলুল হক মোল্যা ও আহম্মদউল্যাহ কাজী বলেন, তাদের অত্যাচারে আমরা সমাজের লোকজন দিশেহারা। সামান্য বিষয় নিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। সর্বশেষ কুরবানীর মাংস নিয়ে এমন কান্ড ঘটিয়েছে। এমন ঘটতে থাকলে আগামীতে আমাদের এলকার লোকজন কুরবানী দিতেও ভয় পাবে।

হাসপাতালের বেডে আহত নুর ইসলাম বাগ বলেন, আমাকে মাইরা ফালাইতে চাইছিলো মিজান মাঝি, তার ভাই সেলিম মাঝি ও অপু মাঝিরা। ঈদের দিন কোরবানির মাংস মাঝিগো সমাজের মাধ্যমে দেই নাই তাই তাদের দলবল নিয়া আমাকে মারধর করেছে। পিটাইতে পিটাইতে পুকুরে নামাইয়া পানিতে ডুবাইয়া মারতে চাইছিলো। আমি কোরবানির গোস্ত নিজে নিজে বিতরন করলাম এটাই আমার অপরাধ। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হলেই আমি তাদের নামে মামলা করবো।

এ বিষয়ে এ্যাডভোকেট মিজান মাঝি হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, নুরুল ইসলাম বাগ কোরবানির মাংস আমাদের সমাজের মাধ্যমে ভাগ না করে মোল্যাদের সমাজে দিয়েছে। অনেকের কুরবানীর মাংস আমাদের দিতে চাইলও সে জোর করেও আলাদা বিতরণ করেছে। সে বিষয়টি নিয়ে সমান্য হাতাহাতি, দ্বন্ধ হয়েছিলো। পরে নুরু বাগকে আমি রাতে দেখেও আসি। শুনলাম এখন সে হাসপাতালে ভর্তি সেখানেও দেখতে যাব। থানার পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে গেছে।

সখিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ঈদের দিন তারাবুনিয়া এলাকায় ০কোরবানির মাংস ভাগাভাগির বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনার বিষয় একটি লিখতি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করেছে। সমাজ রীতির কোন নিয়ম নেই বাংলাদেশের আইনে। কোরবানির মাংস যার যারটা সেই বিতরন করবে। এখানে ভুক্তভোগীরা যদি মামলা করতে ইচ্ছুক হয় মামলা নিয়ে নিবো

শাহাদাত হোসেন হিরু,
ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর

আরও খবর: