প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

বেরোবি প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী প্রক্টর মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আমির শরীফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিকে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, "তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি, তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।"
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, "আমি তদন্ত কমিটি সম্পর্কে আগে কিছুই জানতাম না। আমাকে না জানিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাধারণত কোনো কমিটিতে কারও নাম অন্তর্ভুক্ত করার আগে তার মতামত নেওয়া উচিত। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আজ আমি বিভাগের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে রংপুরের বাইরে রয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম।"
উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির 'জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই' শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলইডি স্ক্রিনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল।
ছাত্রদলের অভিযোগ, প্রদর্শিত একটি ফেস্টুনে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন জামায়াত নেতার ছবি ছিল। ওই ফেস্টুন অপসারণের দাবিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত ব্রাকসু জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদলের নেতা আশিকসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।