প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 18, 2026 ইং
‘আগে কখনও এমন সিদ্ধান্ত নেয়নি’ অস্ট্রেলিয়া, বাধ্য করল বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের কাছে প্রথমবার ঘরের মাঠে টেস্ট হেরে বেশ বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া। ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনায় তারা ব্যাকফুটে অবস্থানে। অবিশ্বাস্যভাবে প্রথম টেস্টের পরই স্কোয়াডে বদল এনে ওপেনার জ্যাক ওয়েদারল্ডকে বাদ দিয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। এ ছাড়া মার্নাস লাবুশেন টিকে থাকলেও জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে আছে। এদিকে, একটি টেস্ট পরই কাউকে বাদ দেওয়ার এমন ঘটনা প্রথমবার দেখার কথা জানালেন সাবেক অজি ক্রিকেটার ব্রেন্ডন জুলিয়ান।
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটের বড় হারের পর নির্বাচকরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুই ইনিংসেই (২৩, ০) ব্যর্থ হয়ে চাপে থাকা ওপেনার ওয়েদারাল্ডকে সিরিজের মাঝপথেই বাদ দেওয়ায় দলে একমাত্র রিজার্ভ ব্যাটার হিসেবে ছিলেন জশ ইংলিস। ফলে নির্বাচকরা ৩০ বছর বয়সী রেনশ’র দিকে তাকান। ২০২৫/২৬ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে ৪৯.৯ গড়ে তিনটি সেঞ্চুরি করে শীর্ষস্থানীয় ব্যাটার তিনি। এবার ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনের দায়িত্বও পেতে পারেন রেনশ।
তবে প্রায় ১০ বছর আগে ২০ বছর বয়সে অভিষেকের পর থেকে তিনবার টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া রেনশর ভবিষ্যৎ নিয়ে জুলিয়ানের ধারণা, এবারও ব্যর্থ হলে তার জন্য জাতীয় দলে ফেরার দরজা স্থায়ীভাবেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফক্স স্পোর্টকে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘এটা তার জন্য একটি সুযোগ, এর আগেও সে এমন সুযোগ পেয়েছে। যদিও আমি মনে করি নির্বাচকরা হতাশ হবেন এই কারণে যে, তাকে কয়েকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সে সেটিকে কাজে লাগাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে সে ঘাবড়ে যাবে না। আশা করি সে জায়গাটা পাকাপোক্ত করতে পারবে।’
সিরিজের মাঝেই ওয়েদারল্ডকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ায় অবাক হয়েছেন জুলিয়ান, ‘আমি খুবই অবাক হয়েছি। (কোচ) অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, অবশ্যই তার রান দরকার, সে চাপে আছে। কিন্তু আমরা একটি টেস্ট ম্যাচের ভিত্তিতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমি জানতাম সে চাপে ছিল, কিন্তু আমি অবশ্যই ভেবেছিলাম তারা তাকে দুই টেস্টের জন্য রাখবে। এই সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত নেওয়া হলো। প্রথম টেস্টের পরই কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার ঘটনা আগে কখনও দেখিনি।’
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডেভিড ওয়ার্নারের অবসর নিলে এরপর অস্ট্রেলিয়া ওপেনিংয়ে সাতজনকে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে স্টিভ স্মিথ ও লাবুশেনকে সাময়িকভাবে মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে আনা হয়েছিল। এ ছাড়া উদীয়মান নাথান ম্যাকসুইনি ও স্যাম কনস্টাসকেও ওপেনার হিসেবে চেষ্টা করা হয়, পরে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগামী ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে নামবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাদা পোশাকে লড়বে। সেই সিরিজের আগে কাউকে হুট করে বাদ দেওয়ার পক্ষে নন জুলিয়ান।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সে ভালো সময় পাবে, অন্তত ঘরের মাটিতে গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগে চারটি টেস্ট। কাউকে শুধু একটি টেস্টের জন্য ফিরিয়ে আনা যায় না। এরপর আপনি কোথায় যাবেন? আপনি নির্বাচকদের বারবার সিদ্ধান্ত বদলাতে চান না। এতে মনে হবে তারা নিজেরাই জানেন না কী করছেন। তারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের বলতে হবে, “ঠিক আছে, ম্যাট রেনশ, এটা তোমার সুযোগ। এখানে চারটি টেস্ট ম্যাচ।” দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা কঠিন হবে, এ কারণেই আমার মনে হয় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা চায় সেখানে যাওয়ার আগে অন্তত একটি টেস্ট খেলুক সে।’
ডারউইন টেস্টে ১ ও ৩১ রানে আউট হওয়া লাবুশেনকে নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করলেন জুলিয়ান, ‘গত তিন বছরে আপনার তিন নম্বর ব্যাটার যদি একটি সেঞ্চুরিও না করে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। তিন নম্বরের খেলোয়াড় সাধারণত দলের সেরা ব্যাটার। তারই সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কথা। অথচ যে খেলোয়াড়টি সেখানে খেলছে, তার গড় ২৬। আমার কাছে এটা উদ্বেগের বিষয়। ম্যাকাইতে সে যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আমার সন্দেহ হচ্ছে সে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে না। আর সেটা হবে বড় একটি সমস্যা।’
এরপর লাবুশেনের বিকল্প ক্রিকেটারের নামটাও জানালেন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘আমি এখনও মনে করি নাথান ম্যাকসুইনি যথেষ্ট ভালো। আমার মনে হয়, মার্নাস যদি চাপে থাকে, তাহলে ম্যাকসুইনিকে তিন নম্বরে আনা হতে পারে। আপনাকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। সে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন নম্বরে ব্যাট করেছে।’
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।