প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 14, 2026 ইং
জুলাই গণহত্যার আসামি নজরুল ইসলাম এখন পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি নজরুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পল্লবী থানায় গোপনে পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। এই গোপন অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নজরুল ইসলাম রাজধানীর পল্লবী ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে পরিচয়ে এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও যুবলীগ নেতা কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিগত সময়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
বিএনপির নীতি-আদর্শ উপেক্ষা করে কীভাবে অন্য দলের বিতর্কিত নেতাকে পদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। জানা গেছে, গত ২২ জুলাই হঠাৎ করেই নজরুল ইসলামকে পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক করে অনুমোদন দেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব মোস্তফা জামান।
অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী সিয়াম হত্যা মামলার ১১৩ নম্বর আসামি নজরুল ইসলামের বিএনপিতে পদায়ন টিকে গেলে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরও কয়েকজন নেতাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পদে যোগদান করানো হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের অন্যতম সহযোগী জুলাই হত্যা মামলার আসামি বেনারসি ব্যবসায়ী ছান্দু ও মো. কাসেমের নাম।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি সৈয়দা ফৌজিয়া হোসেন এখন বিএনপির নেত্রী। বর্তমানে তিনি জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, বিগত সময়ে ফৌজিয়া বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়েও মানববন্ধন করেছিলেন। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
নজরুল ইসলামকে পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, নজরুল ইসলাম কখনো বিএনপির প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামেও তাকে রাজপথে দেখা যায়নি।
তাদের অভিযোগ, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলা ছিল। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ইলিয়াস মোল্লার পক্ষে নৌকা মার্কার ফটোকার্ড ঝুলিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ে সিয়াম হত্যা মামলায় বাদী পক্ষ আমাকে ভুল করে আসামি করেছিল। এরই মধ্যে আমার নামসহ অনেকের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার হয়েছে। আমি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।”
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান বলেন, “কোথাও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।”
কথা বলতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নেতাকর্মীরা নজরুল ইসলামকে ওই পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কার সুপারিশ ছিল এবং কী প্রক্রিয়ায় তাকে পদায়ন করা হয়েছে, তা বিএনপির হাইকমান্ডকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মি/আই
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।