জাতীয়

মুজিবনগর সরকার থেকেই রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল

  জাগোকণ্ঠ ডেস্ক ১৭ এপ্রিল ২০২২ , ৬:১১ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামের যে পথচলা শুরু হয়, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শপথ গ্রহণের প্রধানতম লক্ষ ছিল সাংবিধানিকভাবে রাজনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধ তথা জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করে সুমহান বিজয় চিনিয়ে আনা।

মূলত মুজিবনগর সরকার থেকেই বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। কিন্ত একটি মহল মুজিবনগর সরকারকে অস্থায়ী সরকার আখ্যা দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে, এতে জনগণ প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারছে না। এই জন্য একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে রোববার সন্ধায় রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব কথা বলেন।

বিলিয়া চেয়ারম্যান ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, প্রফেসর ড. আবুল বারকাত, সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ, প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাবেক এসপি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ব্যারিস্টার তানিয়া আমির ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিলিয়া পরিচালক ও মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

বক্তরা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হন। সেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি রচনা করেছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনার আগ পর্যন্ত এই ঘোষণাপত্রটিই ছিল বাংলাদেশ সরকারের আইনি ভিত্তি। এই ঘোষণাপত্রের সূত্র ধরেই ১৯৭২ সালে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয়। অর্থাৎ এই ঘোষণাপত্রটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান এবং বাংলাদেশের জন্মসনদ।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার এম আমীর- উল ইসলাম বলেন, আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুজিবনগরের একটি অনুষ্ঠান দেখে খুব কষ্ট পেলাম। মনে হলো আওয়ামী লীগের মিটিংয়ের মতোই। কথাবার্তা হচ্ছে তার মধ্যে কোনো সারবার্তা নেই। দেখে হতাশ হলাম।

তিনি বলেন, আমি তিনটি বিষয়কে মূল্যায়ন করি। সেটা হচ্ছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার। স্বাধীনতা বলেন, জাতীয়তা বলেন, সবকিছুই কিন্তু এই তিনটি বিষয়ে নিহিত রয়েছে। এই তিনটি বিষয় এখন বাস্তবে বিঘ্নিত ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর জন্য দরকার শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন। ছোটদেরকে আমরা কী শিখাচ্ছি? কোনোদিন খোঁজি নিয়েছি যে, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কী পড়ানো হয়? সেই জন্যই একটা কমিটি করতে জাতীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

আরও খবর: