জাতীয়

মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চাইবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  জাগোকণ্ঠ ডেস্ক ১৭ এপ্রিল ২০২২ , ৬:০১ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত

ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, মানবাধিকার প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

রবিবার (১৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনও রাষ্ট্রের নাক গলানো আশা করে না সরকার জানিয়ে মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এই রিপোর্টে অনেক কিছু আছে যা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না।

তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে গত এক দশকে অনেক উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রম খাত। অথচ পুরো রিপোর্টে এ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য নেই।

র‍্যাবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কোনও ভালো প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা সরকার ভালো চোখে দেখবে না।বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করেছে কিন্তু এখানেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ কারণে র‍্যাবের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিন্দা না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার পুরো দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের। এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ইন্টারভেনশন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না কারো কাছ থেকে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত মাসে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী জেনেভায় গিয়েছিলেন, সেখানে আমরা ডকুমেন্ট হস্তান্তর করেছি। যে ক্ষেত্রেগুলোতে আমরা কাজ করছি, গোস উইদাউট সেইং—বাংলাদেশের মানুষের ভোট এবং ভাতের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আমাদেরও কিছুটা খেদ আছে। কিন্তু সেটার জন্য রেসপন্সিবিলিটি আদৌ আমাদের কি না; এক হাতে তো তালি বাজে না! একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে গেলে যে আরও দল লাগে। ওগুলো তাদের ব্যর্থতা।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে শেখ হাসিনার সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করেছে। মাত্র ৯১ বা ৯৬ থেকে বাংলাদেশে সত্যিকার সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু। এই যাত্রার স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ যতদূর এসেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করেছে এটার কোনো অ্যাপ্রিসিয়েশন এই রিপোর্টে নেই। অতীতে গণমাধ্যমকর্মীরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ লেবার স্ট্যান্ডার্ড ইমপ্রুভমেন্ট কতটুকু হয়েছে। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ৯৮ ভাগ ইম্প্রুভ হয়েছে আরও ২ ভাগ বাকি। এই রিপোর্টে কোনো রিফ্লেকশান নেই, আমরা যে এত পথ পাড়ি দিয়ে এতদূর এসেছি।

যেসব সোর্স থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, এই সোর্সগুলো দুর্বল। যারা অপারেট করেন, আমরা নিকট অতীতে দেখেছি যে, অল হ্যাড ভেরি ক্লিয়ার পলিটিক্যাল এজেন্ডা। বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব আছে যেসব রাষ্ট্রের তারা বাংলাদেশের নিকট অতীতের ইতিহাসটা ভালোভাবে জানবেন বলে আমরা আশা করি। এটা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের জন্য—বলেন তিনি।