ঢাকা   শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

  তৌহিদেরই মুর্শিদ আমার মুহাম্মদের নাম | জাগোকণ্ঠ

   জাগোকণ্ঠ, ডেস্ক



প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩০ পিএম

বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তার গোটা জীবন ছিল উত্তম চরিত্রে সমুজ্জ্বল। রাসূল (সা.)-এর চরিত্রে সব ধরনের মহৎ গুণের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। (আল কলম-৪)।


বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তার গোটা জীবন ছিল উত্তম চরিত্রে সমুজ্জ্বল। রাসূল (সা.)-এর চরিত্রে সব ধরনের মহৎ গুণের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। (আল কলম-৪)।


তার পূতপবিত্র জীবন বিশ্ব মানবতার জন্য উৎকৃষ্টতম আদর্শ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। (সূরা আল আহজাব-২১)।


তিনি ছিলেন, স্নেহপরায়ণ, বিশ্বস্ত আমানতদার, সত্যবাদী ইনসাফের উত্তম মাপকাঠি। সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী, ন্যায়পরায়ণ ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। চরিত্রের দিক দিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত ছিলেন তিনি। জাহিলিয়াতের বর্বরতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে জাতির কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।


কলুষিত সমাজ, নীতিধর্মবিবর্জিত দুর্ধর্ষ আরবদের অন্তরে স্থান করে নেন। তারা একবাক্যে রাসূল (সা.)কে ‘আল আমিন’ উপাদিতে ভূষিত করেন। যখন পবিত্র কাবাঘর সংস্কারের পর হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) যথাস্থানে বসানো নিয়ে ভীষণ মতপার্থক্যের সৃষ্টি হলো। প্রত্যেক গোত্র এ মহান কাজটি নিজেরা সম্পাদনের আগ্রহ প্রকাশ করল।


এমনকি পরিস্থিতি এতদূর অবনতি ঘটল যে, লোকজন তরবারি বের করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। এমন পরিস্থিতিতে কুরাইশদের সর্বাধিক বয়স্ক ব্যক্তি আবু উমাইয়া ইবনে মুগিরাহ মাখযুমি ফয়সালা হিসাবে একটি মত প্রকাশ করলেন, আগামীকাল ভোরে প্রথম যে ব্যক্তি মসজিদে হারামের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে আমরা তার ফয়সালা মেনে নেব।


পর দিন ভোরে নবি মুহাম্মদ (সা.) কে দেখে তারা বলতে লাগল মুহাম্মদ সত্যবাদী। আমরা তার সিদ্ধান্তে খুশি হব। বালক মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে এ জটিল বিষয়ে যুক্তিপূর্ণ উপায়ে মীমাংসা করে দিলেন। রাসূল (সা). একটি চাদর এনে মাটিতে বিছিয়ে তাতে হাজরে আসওয়াদটি উঠালেন। এরপর প্রত্যেক গোত্রের নেতাদের বললেন, সবাই চাদরের একেকটি কোণে ধরুন তাহলে সবাই পাথর স্থাপনের মর্যাদাপ্রাপ্ত হবেন।


এ ফয়সালায় সবাই খুশি হলো এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বজনবিদিত একজন নিরপেক্ষ বিচারকের মর্যাদায় আসীন হলেন। তিনি ছিলেন অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন। জাহিলিয়াত যুগের ক্রান্তিলগ্নে পৃথিবীতে আগম করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাসূল (সা)-এর আবির্ভাবে পৃথিবীতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লবের সূচনা হয়। তিনি মূর্খতার পরিবর্তে জ্ঞান ও সভ্যতা, উগ্রতার পরিবর্তে নম্রতা ও বিনয় শিক্ষা দেন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ বছর বয়সে হিলফুল ফুজুল নামে শান্তি সংগঠনে অংশগ্রহণ করেন।


মহানবি (সা.) ছিলেন মহান নেতা ও সমাজ সংস্কারক। আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় রাসূল (সা.) ছিলেন সত্যের ধারক বাহক ও বাতিলের মাঝে বিভক্তকারী। তিনি শিক্ষা দিলেন ইসলামই বিশ্বমানবতার একমাত্র মুক্তির সনদ। তিনি ছিলেন জীবন্ত কুরআনের প্রতিচ্ছবি।


সাহাবায়ে কেরাম উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) কে রাসূল (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, আয়েশা (রা.) বলেন, তোমরা কী কুরআন পাঠ করো না? জেনে রেখ, পুরো কুরআনই রাসূল (সা.)-এর চরিত্র। (মুসনাদে আহমদ)। অপর এক হাদিসে এসেছে, আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, আমি মহৎ গুণাবলির পূর্ণতা দিতে প্রেরিত হয়েছি। (বুখারি)।


সৃষ্টি জীবের প্রতি অনুগ্রহ করা, ইনসাফ, প্রতিষ্ঠা করা সত্য প্রচার করা ছিল তার আগমনের লক্ষ্য। একটি ঘটনা থেকে তার ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, বদর যুদ্ধে যাওয়ার সময় একটি উটে তিনজন করে সওয়ার হয়েছিলাম। ফলে পালা করে প্রত্যেকে সওয়ার হতেন। রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে এক উটে ছিলেন হজরত আবু লুবাবা ও হজরত আলী (রা.)।


যখন নবিজি (সা.)-এর উট থেকে নেমে পড়ার সময় হতো তখন আবু লুবাবা ও আলী (রা.) তাকে বলতেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনি সওয়ার থাকুন, আপনার হাঁটার পরিবর্তে আমরা হেঁটে যাই। এ কথা শুনে রাসূল (সা.) বলতেন, হাঁটার ক্ষেত্রে তোমরা আমার চেয়ে অধিক শক্তিশালী নও। আর আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে আমি কম প্রত্যাশী নই। (সিরাতে মুস্তফা ২য় খণ্ড)।


আহ! কী অপূর্ব নেতার আদর্শ। কী উত্তম শিক্ষা। রাসূল (সা.)-এর আগমন বিশ্ববাসীর জন্য মহান আল্লাহর সরাসরি নেয়ামত ও রহমত। রাসূল (সা.)-এর শিক্ষা ও হেদায়াতকে রাসূল আমাদের জীবনে একমাত্র পাথেয় হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। তাহলে আমরা উভয় জগতে সফলতা অর্জন করতে পরব।


লেখক : পরিচালক, কিশোর কথা আইডিয়াল মাদ্রাসা



শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য লিখুন

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো.আলী মুবিন,
ঠিকানা:৫৫/২,পুরানা পল্টন লেন (৩ তলা) ঢাকা-১০০০ ।
মোবাইল : ০১৬৮-২০৮৩৫০৭, ০১৭২-৪২৫০১২৯
E-mail : jagokantha@gmail.com, newsjagokantha@gmail.com
Developed By Jagokantha
বিঃ দ্রঃ উক্ত অনলাইন নিউজ পোর্টালটির সকল পেপার্সের কার্যদি প্রক্রিয়াধীন আছে।