অর্থনীতি

৬৮০ টাকার গরুর মাংস ৭৫০

  জাগোকন্ঠ ৯ জুলাই ২০২২ , ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কোরবানির ঈদের আগে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার কয়েকদিন ধরেই অস্থির রয়েছে। বাজারের এ অবস্থার মধ্যে কোরবানি দিতে যাদের সাধ্য নেই অন্তত ঈদের দিন প্রিয়জনের মুখে একটু মাংস তুলে দিতে ঈদের আগের দিন তারা ভিড় করছেন বাজারে। তাতে বাজারে বেড়েছে মাংসের দাম।

রাজধানীর মিরপুরের উত্তর ও মধ্য পীরেরবাগের একাধিক মাংসের দোকানে সরেজমিনে দেখা গেছে, দুদিন আগেও ৬৮০/৬৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া গরুর মাংস শনিবার (৯ জুলাই) বিক্রি হচ্ছে সাড়ে সাতশ টাকায়। কেজিতে বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। খাসির মাংসের দাম ঠেকেছে হাজার টাকায়। এনিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা।

তবে মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরুর দাম বেশি। কেনায় বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ৮০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা উচিত বলেও মনে করেন কোনো কোনো বিক্রেতা।

শনিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-২, উত্তর পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মসলাসহ ভিড় বেশি মাংসের দোকানে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন দিন আগেও ২৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া কক মুরগির দাম ৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা। অধিকাংশ দোকানেই দেখা মেলেনি ডিমের, ছিল না দেশি মুরগিও।

সরেজমিন কাদের গোশত বিতানে দেখা যায়, ডিম, মুরগির মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখা হলেও বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে গরুর মাংস। ৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হলেও মূল্য টানিয়ে রাখা হয়েছে পুরোনোটা।

পাশের আরেকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে সাড়ে আটশ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া খাসির মাংসের দাম হাঁকানো হয়েছে হাজার টাকা।

কাদের গোশত বিতানের মালিক বাদশা মিয়া বলেন, গরুর দাম বেশি। কেনা হয়েছে বাড়তি দাম। সাড়ে সাতশ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করছি এটাই কম। আটশ বিক্রি করতে পারলে ভাল হতো।

ঢাকায় ভবন নির্মাণের কাজ করছেন ময়মনসিংহের মিন্টু মিয়া। মাংসের দাম শুনে কপালে ভাঁজ। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে বাসায় আত্মীয় আসায় মাংস কিনতে এসেছিলাম। ৬৮০ টাকা কিনেছিলাম। আজ সেই মাংস কিনতে হচ্ছে সাড়ে সাতশ টাকায়। আমরা যাব কোথায়। আমরা কোরবানিও দিতে পারছি না। আবার মাংস কিনেও খেতে হবে বাড়তি দামে।

তিনি বলেন, সরকার তো এসব দেখে না। দোকানদারও জিম্মি। দাম বাড়লে ব্যবসায়ীদের লাভ, সাধারণ ক্রেতাদের সমস্যা। সেটা কেউ বোঝে না।

মরিয়ম গোশত বিতানের মালিক বাবুল শিকদার বলেন, কোরবানি উপলক্ষে গরুর সাপ্লাই বেশি হলেও দাম নাগালের বাইরে। মাংস কেজিতে সাতশ টাকা বিক্র করলে লোকসান, তাই সাড়ে সাতশতে বিক্রি করছি।

ওই এলাকার একটি বাসায় কাজ করেন আকলিমা খাতুন। খাসির মাংস কিনতে এসে হাজার টাকার কথা শুনে ফিরে যান গরুর মাংসের দোকানে। সেখানে সাড়ে সাতশ টাকা দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, গরিব মারা সহজ। সব কিছুর দাম বাড়তি। আমরা তো কোরবানি দিতে পারছি না। ঈদের দিন বাচ্চাদের অন্তত একটু মাংস কিনে খাওয়ালেও মনটা শান্তি পায়। কিন্তু হাজার টাকায় খাসির মাংস কেনা সম্ভব না। তাই শেষ পর্যন্ত কক মুরগি কিনতে হলো।

পাশেই দাঁড়িয়ে আরেক নারী ক্রেতা। তিনি বলেন, এই ঈদে খাসি কোরবানি দিচ্ছি। তবে কোরবানির আগে গরুর মাংস বাচ্চাদের খাওয়াব ভেবে বাজারে আসা। প্রতি ঈদের আগের দিন আমি এখান থেকেই মাংস কিনি। কিন্তু এবার দামটা বেশিই।

মধ্য পীরেরবাগ বিসমিল্লাহ গোশত বিতানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা অপেক্ষা করেও ফিরে যাচ্ছেন। কারণ মাংস শেষ।

দোকানের মালিক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতি ঈদের আগে অন্তত তিন চারটা গরু কাটি। এবার মাত্র একটা। কারণ কোরবানির গরুর দাম এবার বাড়তি। সাতশ টাকায় মাংস বিক্রি করে পোষাচ্ছে না। তাই একটিই কেটে সাড়ে সাতশতে বিক্রি করেছি।